৩ হাজার বাতির পৌরসভায় দেড় হাজারই নষ্ট, অন্ধকারে নরসিংদীর ঘোড়াশাল
নরসিংদী প্রতিনিধি
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৩ PM
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
৩ হাজার বাতির পৌরসভায় দেড় হাজারই নষ্ট, অন্ধকারে নরসিংদীর ঘোড়াশাল.
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই নেমে আসে অন্ধকার। দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ সড়কবাতি নষ্ট হয়ে থাকায় প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি ও আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে তৈরি হয়েছে নানা ভোগান্তি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন করে স্থাপন করা বাতি, তার ও সংশ্লিষ্ট মালামাল চুরির ঘটনা। পৌর কর্তৃপক্ষের হিসাবে গত এক থেকে দেড় বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার তারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে।৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঘোড়াশাল পৌরসভার আয়তন ২৭ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কের দীর্ঘ অংশসহ অনেক অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি নেই। ফলে সন্ধ্যার পর এসব সড়ক অন্ধকারে ডুবে থাকে।স্থানীয় বাসিন্দা রিফাত ভূইয়া, পারভেজ মিয়া জামান, হাসান, আলোমগীরসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, পলাশ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘোড়াশাল বাইপাস (চিনিক রোড) এবং ঘোড়াশাল বাস কাউন্টার থেকে ঘোড়াশাল ঘোড়া চত্বর পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার প্রধান সড়কে প্রায় ৩০০টি সড়কবাতি নেই।এ ছাড়া পলাশ সারকারখানা রোড, কো-অপারেটিভ স্কুলের রাস্তা, উত্তর চরপাড়া পোস্ট অফিস সড়ক, বাংলা জুট মিল থেকে ঘাগড়া এবং মিয়াপাড়া থেকে কাবিলা সড়কসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় দেড় হাজার সড়কবাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ও অকেজো হয়ে আছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক জায়গায় বাতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করার পর কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো চুরি হয়ে যায়। ফলে একদিকে নতুন বাতি স্থাপনের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে চুরির কারণে একই জায়গায় বারবার অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।অন্ধকার সড়কে চলাচল করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নারী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা। তাঁদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর এসব সড়কে চলাচলের সময় নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে। অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অপরাধী ও ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কাও রয়েছে। গভীর রাতে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে চুরির আতঙ্কও রয়েছে বলে জানান তাঁরা।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।ঘোড়াশাল পৌরসভার সড়কবাতি পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রয়োজনীয় মালামালের সংকট এবং পৌরসভার পুরোনো গাড়িটি অধিকাংশ সময় নষ্ট থাকায় কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। পৌর এলাকায় মোট প্রায় ৩ হাজার সড়কবাতির মধ্যে প্রায় দেড় হাজার নষ্ট হয়ে আছে। তবে বাতি স্থাপনের কয়েক দিনের মধ্যেই অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো আবার চুরি হয়ে যাচ্ছে।পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু ওবায়েদ বলেন, পলাশ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘোড়াশাল বাইপাস (চিনিক রোড), ঘোড়াশাল বাস কাউন্টার থেকে ঘোড়াশাল ঘোড়া চত্বর এবং ঘোড়াশাল পৌর অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন সড়ক থেকে গত এক থেকে দেড় বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার তারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে। সড়কবাতি স্থাপনের কয়েক দিনের মধ্যেই তার, বাতি ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরাও বিব্রত। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী।ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে নতুন লাইট স্থাপন করা হয়েছে। তবে লাইট লাগানোর কিছুদিন পরই সেগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যেসব এলাকায় সড়কবাতি নেই, সেখানে সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু বাতি স্থাপন করলেই হবে না, সেগুলো যাতে চুরি না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপনের পাশাপাশি পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নরসিংদীর ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই নেমে আসে অন্ধকার। দীর্ঘদিন ধরে অধিকাংশ সড়কবাতি নষ্ট হয়ে থাকায় প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি ও আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে তৈরি হয়েছে নানা ভোগান্তি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নতুন করে স্থাপন করা বাতি, তার ও সংশ্লিষ্ট মালামাল চুরির ঘটনা। পৌর কর্তৃপক্ষের হিসাবে গত এক থেকে দেড় বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার তারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে।
৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঘোড়াশাল পৌরসভার আয়তন ২৭ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কের দীর্ঘ অংশসহ অনেক অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি নেই। ফলে সন্ধ্যার পর এসব সড়ক অন্ধকারে ডুবে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা রিফাত ভূইয়া, পারভেজ মিয়া জামান, হাসান, আলোমগীরসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানান, পলাশ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘোড়াশাল বাইপাস (চিনিক রোড) এবং ঘোড়াশাল বাস কাউন্টার থেকে ঘোড়াশাল ঘোড়া চত্বর পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার প্রধান সড়কে প্রায় ৩০০টি সড়কবাতি নেই।
এ ছাড়া পলাশ সারকারখানা রোড, কো-অপারেটিভ স্কুলের রাস্তা, উত্তর চরপাড়া পোস্ট অফিস সড়ক, বাংলা জুট মিল থেকে ঘাগড়া এবং মিয়াপাড়া থেকে কাবিলা সড়কসহ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় দেড় হাজার সড়কবাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ও অকেজো হয়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক জায়গায় বাতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করার পর কয়েক দিনের মধ্যেই সেগুলো চুরি হয়ে যায়। ফলে একদিকে নতুন বাতি স্থাপনের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে, অন্যদিকে চুরির কারণে একই জায়গায় বারবার অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
অন্ধকার সড়কে চলাচল করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নারী, শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীরা। তাঁদের ভাষ্য, সন্ধ্যার পর এসব সড়কে চলাচলের সময় নিরাপত্তাহীনতা কাজ করে। অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় অপরাধী ও ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কাও রয়েছে। গভীর রাতে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে চুরির আতঙ্কও রয়েছে বলে জানান তাঁরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
ঘোড়াশাল পৌরসভার সড়কবাতি পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রয়োজনীয় মালামালের সংকট এবং পৌরসভার পুরোনো গাড়িটি অধিকাংশ সময় নষ্ট থাকায় কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। পৌর এলাকায় মোট প্রায় ৩ হাজার সড়কবাতির মধ্যে প্রায় দেড় হাজার নষ্ট হয়ে আছে। তবে বাতি স্থাপনের কয়েক দিনের মধ্যেই অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো আবার চুরি হয়ে যাচ্ছে।
পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো. আবু ওবায়েদ বলেন, পলাশ বাসস্ট্যান্ড থেকে ঘোড়াশাল বাইপাস (চিনিক রোড), ঘোড়াশাল বাস কাউন্টার থেকে ঘোড়াশাল ঘোড়া চত্বর এবং ঘোড়াশাল পৌর অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন সড়ক থেকে গত এক থেকে দেড় বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার তারসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে। সড়কবাতি স্থাপনের কয়েক দিনের মধ্যেই তার, বাতি ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরাও বিব্রত। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী।
ঘোড়াশাল পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক ও পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে নতুন লাইট স্থাপন করা হয়েছে। তবে লাইট লাগানোর কিছুদিন পরই সেগুলো চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে যেসব এলাকায় সড়কবাতি নেই, সেখানে সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু বাতি স্থাপন করলেই হবে না, সেগুলো যাতে চুরি না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে পর্যাপ্ত সড়কবাতি স্থাপনের পাশাপাশি পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।