অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যদের স্মরণে নির্মিত 'মৈত্রীস্তম্ভ' উদ্বোধনের আগেই সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। প্রায় ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির কাজ ২০২৪ সালের শেষ দিকে শেষ হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি। এদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চার লেন নির্মাণকাজের ধুলাবালু, আশপাশের চাতালকলের কালো ধোঁয়া ও উড়ে আসা তুষে স্থাপনাটির পরিবেশ ও সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত এ স্মৃতিস্তম্ভটি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছে। বাইরে থেকে দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাটির ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও ইতিহাস নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সরকার ২০১৭ সালে প্রকল্পটি গ্রহণ করে। তখন নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ কোটি টাকা এবং ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয় এবং ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৪৭ কোটি টাকা। পরবর্তীতে আবারও প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৭২ কোটি টাকা করা হয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভটি। এরই মধ্যে ধুলাবালু ও পরিবেশগত দূষণের কারণে স্থাপনাটির সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা কমান্ডের সদস্যসচিব নুরুল ইসলাম বলেন, "অনেক আগেই নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আমরা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মো. ছড়া বলেন, স্মৃতিস্তম্ভের সর্বশেষ অবস্থা পরিদর্শনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আসার কথা ছিল। তবে তাঁদের সফরসূচিতে পরিবর্তন এসেছে। আশা করছি, শিগগিরই তাঁরা পরিদর্শনে আসবেন। এরপরই উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের পরই স্মৃতিস্তম্ভটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।