ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে নতুন রূপে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: গোলাম পরওয়ার
ঢাকা প্রোব প্রতিবেদক
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৩ PM
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে নতুন রূপে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: গোলাম পরওয়ার.
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে রিফাইন করে নতুন রূপে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। সরকারের ভেতরের কিছু ব্যক্তি ও দিল্লির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহল এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেন তিনি।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে মহানগরীর রুকন সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে সহজে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক কৃতিত্ব নয়। এটি ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ফল।তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক অন্ধকারের পর মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, বৈষম্য, দলীয়করণ ও অর্থপাচারমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি দাবি করেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থাকা কয়েকজনের অতীতে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন বামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছিল। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় এ ধরনের রাজনৈতিক শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।তিনি বলেন, বাম, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ—যে পরিচয়েই রাজনীতি করা হোক, শেষ পর্যন্ত আদর্শিক অবস্থানই রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা থাকলেও জামায়াতে ইসলামী তার আদর্শের রাজনীতি চালিয়ে যাবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একসময় শিবিরের শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মকাণ্ডকে ক্যাম্পাসে বাধাগ্রস্ত করা হলেও এখন তারা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের বিজয়কে তিনি ইসলামী আদর্শভিত্তিক তরুণদের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, শুধু দল ক্ষমতায় গেলেই হবে না, প্রত্যেক ব্যক্তির বিজয়ও নিশ্চিত করতে হবে। দলের বিজয় হতে পারে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন, আর ব্যক্তির বিজয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ।এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে আখিরাতে মুক্তির জন্য কাজ করতে হবে। শুধু মুখে ইসলামের কথা বললে হবে না, জীবনে তার বাস্তব প্রয়োগ থাকতে হবে। মানুষের কথা ও কাজের মধ্যে মিল থাকা প্রয়োজন।মুসলমানদের বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংখ্যায় বেশি হলেও বিশ্বের অনেক ক্ষেত্রে মুসলমানরা পিছিয়ে রয়েছে। এর অন্যতম কারণ মুসলমানদের মধ্যে ঈমানের শক্তি ও বাস্তব চেতনার ঘাটতি।ইসলামের প্রাথমিক যুগের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠার সময় মুসলমানদের জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। তখন মসজিদে আজকের মতো জাঁকজমক বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না। কিন্তু পারস্য ও রোমের মতো শক্তিশালী সাম্রাজ্য মুসলমানদের ভয় করত। এখন অনেক মসজিদ অত্যাধুনিক হলেও সেই ঈমানি শক্তি নেই।তিনি বলেন, মানুষ এখন দুনিয়াবি সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। ইসলামে সম্পদ অর্জন নিষিদ্ধ নয়। তবে সম্পদ অর্জনের জন্য যেকোনো পথ বেছে নেওয়া যাবে না। প্রতিযোগিতা করতে হবে আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের জন্য।এ টি এম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, দলের বিজয় মানেই ব্যক্তির বিজয় নয়। কেউ অন্যায়ভাবে ভোট চুরি বা অনৈতিক পদ্ধতিতে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনলেও তাতে তার ব্যক্তিগত মুক্তি হবে না। দলের জন্য অন্যায় করলে সেই অন্যায়ের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।তিনি বলেন, জামায়াতে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্য শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ করা। পাশাপাশি প্রত্যেক কর্মীকে নিজের আখিরাতের সফলতার জন্যও কাজ করতে হবে। কারণ, আল্লাহর কাছে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে।সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।এতে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগকে রিফাইন করে নতুন রূপে রাজনীতিতে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। সরকারের ভেতরের কিছু ব্যক্তি ও দিল্লির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহল এ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে মহানগরীর রুকন সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে আওয়ামী লীগের পক্ষে সহজে রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা দলের একক কৃতিত্ব নয়। এটি ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ফল।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক অন্ধকারের পর মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছিল। গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তার লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি, দমন-পীড়ন, বৈষম্য, দলীয়করণ ও অর্থপাচারমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি দাবি করেন, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থাকা কয়েকজনের অতীতে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। কয়েকজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন বামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছিল। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় এ ধরনের রাজনৈতিক শক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাম, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ—যে পরিচয়েই রাজনীতি করা হোক, শেষ পর্যন্ত আদর্শিক অবস্থানই রাজনৈতিক শক্তির প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ করে। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা থাকলেও জামায়াতে ইসলামী তার আদর্শের রাজনীতি চালিয়ে যাবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একসময় শিবিরের শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মকাণ্ডকে ক্যাম্পাসে বাধাগ্রস্ত করা হলেও এখন তারা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের বিজয়কে তিনি ইসলামী আদর্শভিত্তিক তরুণদের সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি। তিনি বলেন, শুধু দল ক্ষমতায় গেলেই হবে না, প্রত্যেক ব্যক্তির বিজয়ও নিশ্চিত করতে হবে। দলের বিজয় হতে পারে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জন, আর ব্যক্তির বিজয় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভ।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে আখিরাতে মুক্তির জন্য কাজ করতে হবে। শুধু মুখে ইসলামের কথা বললে হবে না, জীবনে তার বাস্তব প্রয়োগ থাকতে হবে। মানুষের কথা ও কাজের মধ্যে মিল থাকা প্রয়োজন।
মুসলমানদের বর্তমান অবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংখ্যায় বেশি হলেও বিশ্বের অনেক ক্ষেত্রে মুসলমানরা পিছিয়ে রয়েছে। এর অন্যতম কারণ মুসলমানদের মধ্যে ঈমানের শক্তি ও বাস্তব চেতনার ঘাটতি।
ইসলামের প্রাথমিক যুগের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মসজিদে নববী প্রতিষ্ঠার সময় মুসলমানদের জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। তখন মসজিদে আজকের মতো জাঁকজমক বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ছিল না। কিন্তু পারস্য ও রোমের মতো শক্তিশালী সাম্রাজ্য মুসলমানদের ভয় করত। এখন অনেক মসজিদ অত্যাধুনিক হলেও সেই ঈমানি শক্তি নেই।
তিনি বলেন, মানুষ এখন দুনিয়াবি সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। ইসলামে সম্পদ অর্জন নিষিদ্ধ নয়। তবে সম্পদ অর্জনের জন্য যেকোনো পথ বেছে নেওয়া যাবে না। প্রতিযোগিতা করতে হবে আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের জন্য।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, দলের বিজয় মানেই ব্যক্তির বিজয় নয়। কেউ অন্যায়ভাবে ভোট চুরি বা অনৈতিক পদ্ধতিতে জামায়াতকে ক্ষমতায় আনলেও তাতে তার ব্যক্তিগত মুক্তি হবে না। দলের জন্য অন্যায় করলে সেই অন্যায়ের দায় ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে যুক্ত হওয়ার উদ্দেশ্য শুধু ক্ষমতায় যাওয়া নয়। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ করা। পাশাপাশি প্রত্যেক কর্মীকে নিজের আখিরাতের সফলতার জন্যও কাজ করতে হবে। কারণ, আল্লাহর কাছে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে।
সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সভাপতিত্ব করেন। কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
এতে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।