মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সামনে কী চ্যালেঞ্জ
ঢাকা প্রোব ডেস্ক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সামনে কী চ্যালেঞ্জ.
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বাংলাদেশে যেমন আলোচনা ছিল, তেমনি নজর ছিল ভারত ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের।ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে বাংলাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ভালো খবর নয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়া মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গত মাসে পদত্যাগ করেন। এর ফলে শেখ হাসিনা তাঁর একজন বিশ্বস্ত মিত্রকে হারিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।অন্যদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরশাসন ও সরকারি চাকরিতে বৈষম্যের অভিযোগে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর দলকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ফখরুলের অবস্থানমির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, অতীতে ভারতের বিষয়ে ফখরুল কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।তবে একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন। ভারতকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের একটি ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। ওই সময় লন্ডনে বিএনপির একটি জনসভায় মির্জা ফখরুল ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বাংলাদেশি মিশনের বাইরে ভারতীয়দের বিক্ষোভ নিয়েও তিনি কথা বলেন।মির্জা ফখরুল শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের সমর্থন রয়েছে—এমন অভিযোগও করেছেন বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।গঙ্গা চুক্তিও আলোচনায়বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৯৯৬ সালে হওয়া এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা।হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে মির্জা ফখরুলের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, এই চুক্তির ওপর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি বড় অংশ নির্ভর করবে।বাংলাদেশের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ভারত সরকারকে চুক্তিটি কার্যকর করার কথাও বলেছেন তিনি।ফলে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়াকে ভারত কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, গঙ্গার পানি বণ্টন এবং শেখ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের অবস্থান—এসব বিষয় সামনে এসেছে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে বাংলাদেশে যেমন আলোচনা ছিল, তেমনি নজর ছিল ভারত ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের।
ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে বাংলাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য ভালো খবর নয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়া মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গত মাসে পদত্যাগ করেন। এর ফলে শেখ হাসিনা তাঁর একজন বিশ্বস্ত মিত্রকে হারিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
অন্যদিকে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির আন্দোলনেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরশাসন ও সরকারি চাকরিতে বৈষম্যের অভিযোগে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর দলকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ফখরুলের অবস্থান
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, অতীতে ভারতের বিষয়ে ফখরুল কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছেন। ভারতকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের একটি ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে। ওই সময় লন্ডনে বিএনপির একটি জনসভায় মির্জা ফখরুল ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বাংলাদেশি মিশনের বাইরে ভারতীয়দের বিক্ষোভ নিয়েও তিনি কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের সমর্থন রয়েছে—এমন অভিযোগও করেছেন বলে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গঙ্গা চুক্তিও আলোচনায়
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ১৯৯৬ সালে হওয়া এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গঙ্গা চুক্তি নিয়ে মির্জা ফখরুলের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, এই চুক্তির ওপর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি বড় অংশ নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ভারত সরকারকে চুক্তিটি কার্যকর করার কথাও বলেছেন তিনি।
ফলে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়াকে ভারত কীভাবে দেখছে, তা নিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, গঙ্গার পানি বণ্টন এবং শেখ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের অবস্থান—এসব বিষয় সামনে এসেছে।