পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনবে অ্যামচ্যাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৯ PM
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আনবে অ্যামচ্যাম.
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আনতে সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের বলরুমে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সরকার প্রস্তুত।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত তিন দশকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে অ্যামচ্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংগঠনটি সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, জ্ঞান ও বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে।
সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁরা আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সরকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যখন কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যা আমাদের কাছে উত্থাপন করা হবে, আমার মন্ত্রণালয় ও সরকার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’
এ প্রসঙ্গে অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠান কর্টেভা বাংলাদেশের উদাহরণ দেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্সসংক্রান্ত একটি জটিলতা সরকারের উদ্যোগে এক মাসের মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের কৌশলগত অবস্থান, তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী এবং বড় অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতেও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে শুধু সম্ভাবনা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বাভাসযোগ্যতা, ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ, দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা, ডিজিটালাইজেশন, বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, আরও মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক দক্ষতা যুক্ত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকারও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন আজাদসহ সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আনতে সরকার ও আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের বলরুমে অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সরকার প্রস্তুত।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত তিন দশকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে অ্যামচ্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংগঠনটি সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমানে ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগের পাশাপাশি প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, জ্ঞান ও বৈশ্বিক সর্বোত্তম চর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে।
সম্প্রতি অ্যামচ্যামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁরা আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সরকার এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যখন কোনো প্রকৃত ব্যবসায়িক সমস্যা আমাদের কাছে উত্থাপন করা হবে, আমার মন্ত্রণালয় ও সরকার বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।’
এ প্রসঙ্গে অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠান কর্টেভা বাংলাদেশের উদাহরণ দেন তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটির শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইসেন্সসংক্রান্ত একটি জটিলতা সরকারের উদ্যোগে এক মাসের মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের কৌশলগত অবস্থান, তরুণ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী এবং বড় অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন শিল্প ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতেও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে বিনিয়োগ আকর্ষণে শুধু সম্ভাবনা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিনিয়োগকারীদের জন্য পূর্বাভাসযোগ্যতা, ব্যবসা পরিচালনার সহজ পরিবেশ, দক্ষ বাণিজ্য সুবিধা এবং স্থিতিশীল নীতিগত কাঠামো প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা, ডিজিটালাইজেশন, বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, আরও মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে। এর মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক দক্ষতা যুক্ত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্য ও সেবার মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকারও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহসভাপতি আলা উদ্দিন আজাদসহ সংগঠনটির সাবেক ও বর্তমান নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী নেতা ও গণমাধ্যমকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অ্যামচ্যামের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা তৈরির সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।