উৎপাদন-বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির লক্ষ্য, পরিকল্পনা চলছে: তিতুমীর
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ PM
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
উৎপাদন-বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির লক্ষ্য, পরিকল্পনা চলছে: তিতুমীর.
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।তিনি বলেন, ঋণনির্ভর ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থাননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার। একই সঙ্গে স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।আজ শনিবার সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিতুমীর। ‘কানেক্টিং নলেজ, পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর বেটার গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক এ বৈঠকে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীরা অংশ নেন।রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে উৎপাদন ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের সংকটের কারণে জনগণের ভোগান্তি কমাতেও সরকার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর পাশাপাশি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।তিনি বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থা স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যে ছেয়ে গেছে। জ্বালানি খাতসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বজনশীলতা ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বেকারত্ব ও বৈষম্য দুটিই বেড়েছে।তিতুমীর বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়েও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তাই বৈষম্য কমানো, সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা এবং সবার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি।তিনি বলেন, শাসকদের পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করেছে যে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে। শাসনব্যবস্থার সঙ্গে মূলত তিনটি বিষয় জড়িত—ক্ষমতা, নীতি নির্ধারণ ও নীতি বাস্তবায়ন।তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ ফলাফল পাওয়া গেলেও তা সামাজিকভাবে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত নাও করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের মতো দেশে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।তিতুমীর আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান মানে শুধু আইন, বিধি বা সাংগঠনিক কাঠামো নয়। এর সঙ্গে রীতি-রেওয়াজ ও মূল্যবোধও জড়িত। তাই আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়েই গবেষণা প্রয়োজন।অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা এবং সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি। অর্থনীতির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলেও সবচেয়ে বড় শর্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠান।তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কার জন্য, কে আইন তৈরি করছে, আইনের ফলে কারা লাভবান হচ্ছে এবং পরিবর্তন করার ক্ষমতা কার হাতে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, ঋণনির্ভর ও পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থাননির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার। একই সঙ্গে স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাটিয়ে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আজ শনিবার সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিতুমীর। ‘কানেক্টিং নলেজ, পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর বেটার গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক এ বৈঠকে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীরা অংশ নেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, অর্থনীতিকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে উৎপাদন ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের সংকটের কারণে জনগণের ভোগান্তি কমাতেও সরকার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর পাশাপাশি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাসহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থা স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যে ছেয়ে গেছে। জ্বালানি খাতসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্বজনশীলতা ও পৃষ্ঠপোষকতানির্ভর সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বেকারত্ব ও বৈষম্য দুটিই বেড়েছে।
তিতুমীর বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়েও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তাই বৈষম্য কমানো, সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা এবং সবার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি বলেন, শাসকদের পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করেছে যে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে। শাসনব্যবস্থার সঙ্গে মূলত তিনটি বিষয় জড়িত—ক্ষমতা, নীতি নির্ধারণ ও নীতি বাস্তবায়ন।
তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ ফলাফল পাওয়া গেলেও তা সামাজিকভাবে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত নাও করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, বাংলাদেশের মতো দেশে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিতুমীর আরও বলেন, প্রতিষ্ঠান মানে শুধু আইন, বিধি বা সাংগঠনিক কাঠামো নয়। এর সঙ্গে রীতি-রেওয়াজ ও মূল্যবোধও জড়িত। তাই আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান নিয়েই গবেষণা প্রয়োজন।
অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা এবং সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি। অর্থনীতির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলেও সবচেয়ে বড় শর্ত হচ্ছে প্রতিষ্ঠান।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কার জন্য, কে আইন তৈরি করছে, আইনের ফলে কারা লাভবান হচ্ছে এবং পরিবর্তন করার ক্ষমতা কার হাতে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।