বেরোবিতে ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদলের আভাস.
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে ব্যাপক রদবদলের আভাস পাওয়া গেছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিকসহ বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে যেসব শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই এখনো নিজ নিজ পদে বহাল রয়েছেন। তবে আগামী মেয়াদে এসব পদে নতুন মুখ আনার সম্ভাবনা রয়েছে।সূত্রের দাবি, নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনের সদস্য ফরম পূরণ করেছেন, এমন কয়েকজন শিক্ষকও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে আসার দৌড়ে রয়েছেন বলে ক্যাম্পাসে আলোচনা চলছে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, তিনটি আবাসিক হলের বর্তমান প্রভোস্টদের মধ্যে শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট ড. মো. কামরুজ্জামান, বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ এবং শহীদ ফেলানী হলের প্রভোস্ট ড. সিফাত রুমানকে একই পদে পুনর্নিয়োগ না দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ প্রামাণিককেও নতুন মেয়াদে দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে সূত্রের দাবি। প্রক্টর পদেও নতুন মুখ আসতে পারে বলে জানা গেছে।এদিকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক চার্লস ডারউইনের দায়িত্ব পাললের অবহেলা নিয়েও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।লাইব্রেরিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া এবং লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গ্রন্থাগারিকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া গ্রন্থাগারিকের কাছ থেকে এসব সমস্যার সমাধান না পেয়ে লাইব্রেরিতে থাকা শিক্ষার্থীরা টানা দুইবার উপাচার্যের দপ্তর ও বাসভবন ঘেরাও করেন।অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্নতা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে ক্যাফেটেরিয়ার ওয়াশরুম অপরিষ্কার থাকা এবং পরিচালকের নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।এদিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোর জন্য গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ইসমাইল হোসাইন, পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক চার্লস ডারউইন এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।এদিকে সবার নজর এখন ছাত্র উপদেষ্টা ও বহিরাঙ্গন পরিচালক পদে। সূত্র জানায়, এ দুটি পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, চলতি মেয়াদে তাদের সিন্ডিকেট সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া বর্তমান উপাচার্যের সময়ে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষকও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকছেন বলে জানা গেছে।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, এটা তো ভিসি স্যারের হাতে। তিনি যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকে দায়িত্ব দেবেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিষয়টি সবার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রশাসন চালাতে হলে দক্ষ লোকের প্রয়োজন। তাই দল-মত নির্বিশেষে কাকে কাকে দায়িত্ব দেওয়া যায়, তা সবার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোতে ব্যাপক রদবদলের আভাস পাওয়া গেছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও সহকারী প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিকসহ বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে যেসব শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই এখনো নিজ নিজ পদে বহাল রয়েছেন। তবে আগামী মেয়াদে এসব পদে নতুন মুখ আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রের দাবি, নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠনের সদস্য ফরম পূরণ করেছেন, এমন কয়েকজন শিক্ষকও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে আসার দৌড়ে রয়েছেন বলে ক্যাম্পাসে আলোচনা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র আরও জানায়, তিনটি আবাসিক হলের বর্তমান প্রভোস্টদের মধ্যে শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট ড. মো. কামরুজ্জামান, বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ এবং শহীদ ফেলানী হলের প্রভোস্ট ড. সিফাত রুমানকে একই পদে পুনর্নিয়োগ না দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ প্রামাণিককেও নতুন মেয়াদে দায়িত্ব দেওয়া হবে না বলে সূত্রের দাবি। প্রক্টর পদেও নতুন মুখ আসতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির গ্রন্থাগারিক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক চার্লস ডারউইনের দায়িত্ব পাললের অবহেলা নিয়েও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।
লাইব্রেরিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া এবং লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা নিয়ে গ্রন্থাগারিকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া গ্রন্থাগারিকের কাছ থেকে এসব সমস্যার সমাধান না পেয়ে লাইব্রেরিতে থাকা শিক্ষার্থীরা টানা দুইবার উপাচার্যের দপ্তর ও বাসভবন ঘেরাও করেন।
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার অব্যবস্থাপনা ও অপরিচ্ছন্নতা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষ করে ক্যাফেটেরিয়ার ওয়াশরুম অপরিষ্কার থাকা এবং পরিচালকের নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলোর জন্য গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ইসমাইল হোসাইন, পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক চার্লস ডারউইন এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে সবার নজর এখন ছাত্র উপদেষ্টা ও বহিরাঙ্গন পরিচালক পদে। সূত্র জানায়, এ দুটি পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী, চলতি মেয়াদে তাদের সিন্ডিকেট সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই। এছাড়া বর্তমান উপাচার্যের সময়ে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষকও প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, এটা তো ভিসি স্যারের হাতে। তিনি যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকে দায়িত্ব দেবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, বিষয়টি সবার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রশাসন চালাতে হলে দক্ষ লোকের প্রয়োজন। তাই দল-মত নির্বিশেষে কাকে কাকে দায়িত্ব দেওয়া যায়, তা সবার সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।