সংকেতের যন্ত্রাংশ চুরি, আখাউড়ায় পাইলটিং পদ্ধতিতে চলছে ট্রেন.
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের আশপাশে সংকেত ব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সংকেতব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় জংশন থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনগুলোকে নির্দিষ্ট একটি স্থানে প্রতিনিয়ত অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি দিতে হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় পুরোনো ‘পাইলটিং’ পদ্ধতিতে ট্রেন চালানো হচ্ছে। এতে প্রতিটি ট্রেনেরই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় লাগছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া জংশনের আশপাশে সংকেত ব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়মিত চুরি হচ্ছে। চুরি যাওয়া এসব যন্ত্রাংশের অনেকগুলোই বাজারে সহজলভ্য নয়। কিছু যন্ত্রাংশ আবার বেশ ব্যয়বহুল। ফলে চুরি হওয়ার পর দ্রুত সেগুলো সংগ্রহ করে সংকেতব্যবস্থা সচল করা সম্ভব হচ্ছে না।ট্রেন চলাচলে সংকেতব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেন থামানো ও চলাচলের জন্য লাল, হলুদ ও সবুজ সংকেত ব্যবহার করা হয়। এসব সংকেত পরিচালনায় বিভিন্ন স্থানে বিশেষ তার, ট্রান্সফরমার, চার্জার, রিলে ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ থাকে। চোরদের লক্ষ্য এখন এসব মূল্যবান যন্ত্রাংশ।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া এবং আখাউড়া-সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত সংকেতের যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে। সম্প্রতি আখাউড়ার বাইপাস ও দেবগ্রাম এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়েছে।আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের সংকেত বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সংকেতব্যবস্থার বিভিন্ন স্থানে বক্স বসানো থাকে। দুর্বৃত্তরা এসব বক্স ভেঙে তারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেবগ্রাম ও বাইপাস এলাকায় বক্স ভেঙে টার্মিনাল, ফিউজ, রিলে, ট্র্যাক ফিড চার্জার ও নাটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়েছে।বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং আখাউড়া রেলওয়ে থানায় করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, চুরি যাওয়া এসব সরঞ্জাম বাজারে অপ্রতুল এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। একের পর এক যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ায় স্টেশনের একটি অংশে স্বাভাবিক সংকেতব্যবস্থায় ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।বিশেষ করে আখাউড়া স্টেশনের কাছাকাছি তিন দিকের আউটার সিগন্যাল কার্যকর না থাকায় পাইলটিং পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ট্রেনের গতি ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। ফলে ট্রেনের নির্ধারিত সময়সূচি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (সংকেত) মো. জোবায়ের বলেন, ‘ইদানীং যন্ত্রাংশ চুরি বেড়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ রেলওয়ে থানা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘বাইপাস ও দেবগ্রাম এলাকায় চুরি বেশি হচ্ছে। বাইপাস এলাকার সংকেতব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ কারণে হাতে পয়েন্ট মিলিয়ে পাইলটিং পদ্ধতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। চুরির কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।’রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংকেতব্যবস্থার যন্ত্রাংশ চুরি বন্ধ এবং দ্রুত সংকেতব্যবস্থা সচল করা না গেলে আখাউড়া হয়ে চলাচলকারী ট্রেনের সময়সূচিতে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের আশপাশে সংকেত ব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সংকেতব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় জংশন থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা থেকে সিলেটগামী ট্রেনগুলোকে নির্দিষ্ট একটি স্থানে প্রতিনিয়ত অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি দিতে হচ্ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে ওই এলাকায় পুরোনো ‘পাইলটিং’ পদ্ধতিতে ট্রেন চালানো হচ্ছে। এতে প্রতিটি ট্রেনেরই নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত সময় লাগছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া জংশনের আশপাশে সংকেত ব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়মিত চুরি হচ্ছে। চুরি যাওয়া এসব যন্ত্রাংশের অনেকগুলোই বাজারে সহজলভ্য নয়। কিছু যন্ত্রাংশ আবার বেশ ব্যয়বহুল। ফলে চুরি হওয়ার পর দ্রুত সেগুলো সংগ্রহ করে সংকেতব্যবস্থা সচল করা সম্ভব হচ্ছে না।
ট্রেন চলাচলে সংকেতব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রেন থামানো ও চলাচলের জন্য লাল, হলুদ ও সবুজ সংকেত ব্যবহার করা হয়। এসব সংকেত পরিচালনায় বিভিন্ন স্থানে বিশেষ তার, ট্রান্সফরমার, চার্জার, রিলে ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ থাকে। চোরদের লক্ষ্য এখন এসব মূল্যবান যন্ত্রাংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া এবং আখাউড়া-সিলেট রেলপথের হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত সংকেতের যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে। সম্প্রতি আখাউড়ার বাইপাস ও দেবগ্রাম এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়েছে।
আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের সংকেত বিভাগের একটি সূত্র জানায়, সংকেতব্যবস্থার বিভিন্ন স্থানে বক্স বসানো থাকে। দুর্বৃত্তরা এসব বক্স ভেঙে তারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেবগ্রাম ও বাইপাস এলাকায় বক্স ভেঙে টার্মিনাল, ফিউজ, রিলে, ট্র্যাক ফিড চার্জার ও নাটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়েছে।
বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং আখাউড়া রেলওয়ে থানায় করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, চুরি যাওয়া এসব সরঞ্জাম বাজারে অপ্রতুল এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। একের পর এক যন্ত্রাংশ চুরি হওয়ায় স্টেশনের একটি অংশে স্বাভাবিক সংকেতব্যবস্থায় ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষ করে আখাউড়া স্টেশনের কাছাকাছি তিন দিকের আউটার সিগন্যাল কার্যকর না থাকায় পাইলটিং পদ্ধতিতে ট্রেন পরিচালনা করতে হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ট্রেনের গতি ও চলাচল নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। ফলে ট্রেনের নির্ধারিত সময়সূচি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (সংকেত) মো. জোবায়ের বলেন, ‘ইদানীং যন্ত্রাংশ চুরি বেড়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ রেলওয়ে থানা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাইপাস ও দেবগ্রাম এলাকায় চুরি বেশি হচ্ছে। বাইপাস এলাকার সংকেতব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ কারণে হাতে পয়েন্ট মিলিয়ে পাইলটিং পদ্ধতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। চুরির কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।’
রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংকেতব্যবস্থার যন্ত্রাংশ চুরি বন্ধ এবং দ্রুত সংকেতব্যবস্থা সচল করা না গেলে আখাউড়া হয়ে চলাচলকারী ট্রেনের সময়সূচিতে আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।