নরসিংদীতে মাদক সেবনকালে পুলিশ সদস্যসহ আটক ৪.
নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একজনকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অপরজনকে মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক সেবনের সময় স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার বেলাবো সদর ইউনিয়নের মাটিয়ালপাড়া এলাকায় মাদক সেবনের সময় শামসুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজনকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, একটি বাগানবাড়িতে মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক সেবনের সময় তাদের আটক করা হয়।স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি টের পেয়ে তারা বাগানবাড়িটি ঘেরাও করে চারজনকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে বেলাবো থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। আটক অপর তিনজন হলেন মাটিয়ালপাড়ার মৃত আলী আকবরের ছেলে উজ্জল মিয়া (৩৭), ইব্রাহিমপুর গ্রামের আতস আলীর ছেলে রকি (২৮) এবং মৃত মজনু মিয়ার ছেলে বাদল (৩৭)।বেলাবো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপকর্ম বা মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্যএর আগে গত ২৭ এপ্রিল বেলাবো ও রায়পুরা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন বেলাবো থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. জীবন মিয়া (২৮)।ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন বেলাবো ও রায়পুরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল ডিবির একটি দল। বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, বেলাবোর বারৈচা বাজার এলাকা থেকে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে রায়পুরার খামারেরচর এলাকায় যাচ্ছেন।পরে ডিবি সদস্যরা খামারেরচর এএনএম জামে মসজিদের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহীকে আটক করা হয়। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে জানা যায়, তিনি বেলাবো থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. জীবন মিয়া।তল্লাশি চালিয়ে তার ট্রাউজারের পকেটে থাকা একটি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতর তিনটি জিপার ব্যাগে রাখা মোট ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।ডিবি পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জীবন মিয়া বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবাগুলো বহন করার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বেলাবো থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তভার ডিবি পুলিশের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।পুলিশ সদস্যদের মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্নমাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বেলাবো থানায় কর্মরত দুই পুলিশ সদস্যের মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, ডিবির মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তারা অবগত হয়েছেন। ঘটনায় অন্য কোনো সদস্য জড়িত আছেন কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি আরও বলেন, পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত কাউকেই কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একজনকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। অপরজনকে মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক সেবনের সময় স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার বেলাবো সদর ইউনিয়নের মাটিয়ালপাড়া এলাকায় মাদক সেবনের সময় শামসুল ইসলাম নামে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজনকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, একটি বাগানবাড়িতে মাদক কারবারিদের সঙ্গে মাদক সেবনের সময় তাদের আটক করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি টের পেয়ে তারা বাগানবাড়িটি ঘেরাও করে চারজনকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে বেলাবো থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়। আটক অপর তিনজন হলেন মাটিয়ালপাড়ার মৃত আলী আকবরের ছেলে উজ্জল মিয়া (৩৭), ইব্রাহিমপুর গ্রামের আতস আলীর ছেলে রকি (২৮) এবং মৃত মজনু মিয়ার ছেলে বাদল (৩৭)।
বেলাবো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আমান উল্লাহ বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপকর্ম বা মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার পুলিশ সদস্য
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল বেলাবো ও রায়পুরা উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন বেলাবো থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. জীবন মিয়া (২৮)।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন বেলাবো ও রায়পুরার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল ডিবির একটি দল। বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, বেলাবোর বারৈচা বাজার এলাকা থেকে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে রায়পুরার খামারেরচর এলাকায় যাচ্ছেন।
পরে ডিবি সদস্যরা খামারেরচর এএনএম জামে মসজিদের সামনে অবস্থান নেন। সেখানে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল আরোহীকে আটক করা হয়। পরে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে জানা যায়, তিনি বেলাবো থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. জীবন মিয়া।
তল্লাশি চালিয়ে তার ট্রাউজারের পকেটে থাকা একটি সিগারেটের প্যাকেটের ভেতর তিনটি জিপার ব্যাগে রাখা মোট ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ সময় তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
ডিবি পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জীবন মিয়া বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবাগুলো বহন করার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বেলাবো থানায় মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্তভার ডিবি পুলিশের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
পুলিশ সদস্যদের মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন
মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বেলাবো থানায় কর্মরত দুই পুলিশ সদস্যের মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, ডিবির মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তারা অবগত হয়েছেন। ঘটনায় অন্য কোনো সদস্য জড়িত আছেন কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কেউ জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত কাউকেই কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।