ভাড়াটিয়ার সঙ্গে বারবিকিউ নিয়ে বিরোধ, কানাডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী গ্রেপ্তার
ঢাকা প্রোব ডেস্ক
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ PM
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
ভাড়াটিয়ার সঙ্গে বারবিকিউ নিয়ে বিরোধ, কানাডায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী গ্রেপ্তার.
কানাডার সারেতে ভাড়াটিয়ার সঙ্গে বারবিকিউ নিয়ে বিরোধের জেরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। একের পর এক সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আলোচনায় আসে।গ্রেপ্তার হওয়া ওই নারীর নাম রাজ তিওয়ানা। তাঁর ভাড়াটিয়া ‘তিওয়ানা ফার্ম সারভাইভার’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঘটনাগুলোর ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং পরে পুলিশের হাতে তিওয়ানার গ্রেপ্তারের দৃশ্য দেখা যায়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারেতে ওই ভাড়াটিয়া তাঁর বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছেন।ভাড়াটিয়ার প্রকাশ করা সর্বশেষ একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ তিওয়ানার বাড়িতে পৌঁছেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের তাঁকে গ্রেপ্তারের কথা বলতে শোনা যায়। এ সময় তিওয়ানাকে কিছুটা বিভ্রান্ত দেখা যায়। হাতকড়া পরানোর আগে তিনি মেয়েকে ফোন করার অনুমতি চান। পরে পুলিশ তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে নিয়ে যায়।তবে তিওয়ানার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে বা কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।বাগানে বারবিকিউ নিয়ে বিরোধের শুরুভাড়াটিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, বাগানে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বারবিকিউতে খাবার রান্না করার সময় বিরোধের সূত্রপাত হয়।তাঁর দাবি, তিওয়ানা তাঁদের বারবিকিউ করতে বাধা দেন। তিনি বলেন, তাঁর সম্পত্তিতে এভাবে রান্না করতে দেওয়া সম্ভব নয়।ভাড়াটিয়ার প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে তিওয়ানাকে দেয়ালের কিছু বাদামি দাগের দিকে ইঙ্গিত করতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সম্পত্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান।৫০ বছর বয়সী ওই ভাড়াটিয়া তিওয়ানাকে বলেন, তিনি ভাড়া পরিশোধ করেন। তাই একজন বন্ধুকে নিয়ে রাতের খাবার খাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। এ সময় তাঁর বন্ধু মুঠোফোনে পুরো কথোপকথন রেকর্ড করছিলেন।একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিডিও ধারণ করায় ভাড়াটিয়ার বন্ধুর উপস্থিতি নিয়েও তিওয়ানা আপত্তি জানান।ভাড়াটিয়ার দাবি, দেয়ালের দাগগুলো মরিচার। তবে তিওয়ানা অভিযোগ করেন, তিনি সম্পত্তিতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করছেন। বারবিকিউ করতে চাইলে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে রান্না করার পরামর্শও দেন তিনি।গ্রিল থেকে খাবার সরানোর অভিযোগএকই দিনের আরেকটি ভিডিওতে তিওয়ানাকে ভাড়াটিয়া ও তাঁর বন্ধুর রান্না করা খাবার বারবিকিউ গ্রিল থেকে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।ভাড়াটিয়া এতে আপত্তি জানান। তাঁকে ভয় দেখানোরও অভিযোগ করেন তিনি।টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিওয়ানা একটি কাঠের টুকরা দিয়ে গ্রিলের খাবার সরিয়ে দেন। তিনি বলেন, তাঁর সম্পত্তিতে এভাবে রান্না করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে পুলিশ ডাকবেন বলেও জানান তিনি।বারবিকিউ ব্যবহার নিয়ে ছোট একটি বিরোধ ধীরে ধীরে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে বড় ধরনের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়।আরও হয়রানির অভিযোগবারবিকিউয়ের ঘটনার পর ভাড়াটিয়া ইনস্টাগ্রামে আরও কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তিওয়ানা নিয়মিতভাবে ভাড়া নেওয়া সম্পত্তি ব্যবহারে হস্তক্ষেপ করতেন।একটি ভিডিওতে তিওয়ানাকে ভাড়াটিয়ার বাসায় প্রবেশ করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে তাঁকে ভাড়াটিয়ার দিকে পাথর ছুড়তে এবং পরে শারীরিক সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। এ সময় ভাড়াটিয়াকে বারবার তাঁকে নিজের ইউনিট থেকে বেরিয়ে যেতে বলতে শোনা যায়।অন্য একটি ভিডিওতে তিওয়ানাকে টেবিলের ওপর থাকা একটি পাত্র তুলে ভাড়াটিয়ার বন্ধুকে আঘাত করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তি সেখানে কেন ছিলেন, তা নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করতে দেখা যায়।জোর করে প্রবেশ ও তালা পরিবর্তনের অভিযোগভাড়াটিয়া আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে তিওয়ানা তাঁর বাসায় প্রবেশ করেন। পরে দরজার তালা পরিবর্তন করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর।একটি পোস্টে ভাড়াটিয়া দাবি করেন, ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর ভাড়া পরিশোধ করা ছিল। এরপরও ভাড়া নেওয়া ইউনিটে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করা হয়।এক ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তাঁর ভাড়া নেওয়া সম্পত্তিতে তৃতীয়বারের মতো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। বাসার দরজা পুরোপুরি খুলে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
কানাডার সারেতে ভাড়াটিয়ার সঙ্গে বারবিকিউ নিয়ে বিরোধের জেরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক নারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। একের পর এক সংঘর্ষের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আলোচনায় আসে।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই নারীর নাম রাজ তিওয়ানা। তাঁর ভাড়াটিয়া ‘তিওয়ানা ফার্ম সারভাইভার’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঘটনাগুলোর ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং পরে পুলিশের হাতে তিওয়ানার গ্রেপ্তারের দৃশ্য দেখা যায়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারেতে ওই ভাড়াটিয়া তাঁর বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেছেন।
ভাড়াটিয়ার প্রকাশ করা সর্বশেষ একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ তিওয়ানার বাড়িতে পৌঁছেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের তাঁকে গ্রেপ্তারের কথা বলতে শোনা যায়। এ সময় তিওয়ানাকে কিছুটা বিভ্রান্ত দেখা যায়। হাতকড়া পরানোর আগে তিনি মেয়েকে ফোন করার অনুমতি চান। পরে পুলিশ তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে নিয়ে যায়।
তবে তিওয়ানার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে বা কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
বাগানে বারবিকিউ নিয়ে বিরোধের শুরু
ভাড়াটিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, বাগানে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে বারবিকিউতে খাবার রান্না করার সময় বিরোধের সূত্রপাত হয়।
তাঁর দাবি, তিওয়ানা তাঁদের বারবিকিউ করতে বাধা দেন। তিনি বলেন, তাঁর সম্পত্তিতে এভাবে রান্না করতে দেওয়া সম্ভব নয়।
ভাড়াটিয়ার প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে তিওয়ানাকে দেয়ালের কিছু বাদামি দাগের দিকে ইঙ্গিত করতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, সম্পত্তির ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান।
৫০ বছর বয়সী ওই ভাড়াটিয়া তিওয়ানাকে বলেন, তিনি ভাড়া পরিশোধ করেন। তাই একজন বন্ধুকে নিয়ে রাতের খাবার খাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। এ সময় তাঁর বন্ধু মুঠোফোনে পুরো কথোপকথন রেকর্ড করছিলেন।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভিডিও ধারণ করায় ভাড়াটিয়ার বন্ধুর উপস্থিতি নিয়েও তিওয়ানা আপত্তি জানান।
ভাড়াটিয়ার দাবি, দেয়ালের দাগগুলো মরিচার। তবে তিওয়ানা অভিযোগ করেন, তিনি সম্পত্তিতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করছেন। বারবিকিউ করতে চাইলে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে রান্না করার পরামর্শও দেন তিনি।
গ্রিল থেকে খাবার সরানোর অভিযোগ
একই দিনের আরেকটি ভিডিওতে তিওয়ানাকে ভাড়াটিয়া ও তাঁর বন্ধুর রান্না করা খাবার বারবিকিউ গ্রিল থেকে সরিয়ে নিতে দেখা যায়।
ভাড়াটিয়া এতে আপত্তি জানান। তাঁকে ভয় দেখানোরও অভিযোগ করেন তিনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিওয়ানা একটি কাঠের টুকরা দিয়ে গ্রিলের খাবার সরিয়ে দেন। তিনি বলেন, তাঁর সম্পত্তিতে এভাবে রান্না করতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে পুলিশ ডাকবেন বলেও জানান তিনি।
বারবিকিউ ব্যবহার নিয়ে ছোট একটি বিরোধ ধীরে ধীরে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে বড় ধরনের দ্বন্দ্বে রূপ নেয়।
আরও হয়রানির অভিযোগ
বারবিকিউয়ের ঘটনার পর ভাড়াটিয়া ইনস্টাগ্রামে আরও কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। তিওয়ানা নিয়মিতভাবে ভাড়া নেওয়া সম্পত্তি ব্যবহারে হস্তক্ষেপ করতেন।
একটি ভিডিওতে তিওয়ানাকে ভাড়াটিয়ার বাসায় প্রবেশ করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে তাঁকে ভাড়াটিয়ার দিকে পাথর ছুড়তে এবং পরে শারীরিক সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। এ সময় ভাড়াটিয়াকে বারবার তাঁকে নিজের ইউনিট থেকে বেরিয়ে যেতে বলতে শোনা যায়।
অন্য একটি ভিডিওতে তিওয়ানাকে টেবিলের ওপর থাকা একটি পাত্র তুলে ভাড়াটিয়ার বন্ধুকে আঘাত করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তি সেখানে কেন ছিলেন, তা নিয়েও তাঁকে প্রশ্ন করতে দেখা যায়।
জোর করে প্রবেশ ও তালা পরিবর্তনের অভিযোগ
ভাড়াটিয়া আরও অভিযোগ করেছেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে তিওয়ানা তাঁর বাসায় প্রবেশ করেন। পরে দরজার তালা পরিবর্তন করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাঁর।
একটি পোস্টে ভাড়াটিয়া দাবি করেন, ১৫ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর ভাড়া পরিশোধ করা ছিল। এরপরও ভাড়া নেওয়া ইউনিটে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করা হয়।
এক ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তাঁর ভাড়া নেওয়া সম্পত্তিতে তৃতীয়বারের মতো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। বাসার দরজা পুরোপুরি খুলে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।