মান্দায় চার বছর ধরে সম্মানীভাতা বঞ্চিত কালিকাপুরের ইউপি সদস্যরা
মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
ছবি প্রতিনিধি
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
মান্দায় চার বছর ধরে সম্মানীভাতা বঞ্চিত কালিকাপুরের ইউপি সদস্যরা.
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচিত সদস্যরা চার বছরের বেশি সময় ধরে সম্মানীভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন সম্মানীভাতা না পাওয়ায় প্রত্যেক সদস্যের দুই লাখ টাকার বেশি বকেয়া পড়েছে।একই সঙ্গে ইউপি সদস্যদের সম্পৃক্ত না করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল মাসুদ রানা অভিযোগগুলোর তদন্ত করেন। এ সময় তিনি ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেন। পাশাপাশি পরিষদের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ারম্যানের কাছে চাওয়া হয়েছে।আল মাসুদ রানা বলেন, ‘সবে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছেও পরিষদের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে ইউএনওর কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’নয় সদস্যের অভিযোগউপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নয়জন সদস্য গত বছরের ২৪ নভেম্বর মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তাঁরা দীর্ঘদিন সম্মানীভাতা না পাওয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে তাঁদের সম্পৃক্ত না করার বিষয়টি তুলে ধরেন।অভিযোগ দাখিলের প্রায় নয় মাস পর বৃহস্পতিবার এর তদন্ত শুরু হলো।ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন মোল্লা বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি সম্মানীভাতা হিসেবে মাত্র ৩০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তাঁর ওয়ার্ডে কোনো প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়নি। বরং অন্য সদস্যদের মাধ্যমে তাঁর ওয়ার্ডে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা কম্বলও তাঁর ভাগে জোটেনি বলে দাবি করেন তিনি।পরিষদের আরেক সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত সম্মানীভাতা হিসেবে ৪০ হাজার টাকা পেয়েছি। বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমার ভাগ্যে কোনো প্রকল্প জোটেনি।’ইউপি সদস্য ইউনুস আলী সরদার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন প্রকল্পে ইউপি সদস্যদের সভাপতি করা হলেও প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে তাঁদের কিছুই জানানো হয় না। শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে চেয়ারম্যান নিজেই বিল উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ তাঁর।ইউনুস আলী সরদারের দাবি, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁদের সম্মানীভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।অভিযোগ অস্বীকার চেয়ারম্যানেরতবে ইউপি সদস্যদের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু। তাঁর ভাষ্য, হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স থেকে পাওয়া অর্থ ছাড়া পরিষদের উল্লেখযোগ্য কোনো আয় নেই। প্রতিবছর পরিষদের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় সদস্যদের সম্মানীভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ইউপি সদস্যদের দেওয়া অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচিত সদস্যরা চার বছরের বেশি সময় ধরে সম্মানীভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন সম্মানীভাতা না পাওয়ায় প্রত্যেক সদস্যের দুই লাখ টাকার বেশি বকেয়া পড়েছে।
একই সঙ্গে ইউপি সদস্যদের সম্পৃক্ত না করে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং প্রকল্পের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল মাসুদ রানা অভিযোগগুলোর তদন্ত করেন। এ সময় তিনি ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেন। পাশাপাশি পরিষদের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ারম্যানের কাছে চাওয়া হয়েছে।
আল মাসুদ রানা বলেন, ‘সবে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছেও পরিষদের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে ইউএনওর কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
নয় সদস্যের অভিযোগ
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের নয়জন সদস্য গত বছরের ২৪ নভেম্বর মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তাঁরা দীর্ঘদিন সম্মানীভাতা না পাওয়া এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে তাঁদের সম্পৃক্ত না করার বিষয়টি তুলে ধরেন।
অভিযোগ দাখিলের প্রায় নয় মাস পর বৃহস্পতিবার এর তদন্ত শুরু হলো।
ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন মোল্লা বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি সম্মানীভাতা হিসেবে মাত্র ৩০ হাজার টাকা পেয়েছেন। তাঁর ওয়ার্ডে কোনো প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়নি। বরং অন্য সদস্যদের মাধ্যমে তাঁর ওয়ার্ডে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া শীতার্ত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা কম্বলও তাঁর ভাগে জোটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
পরিষদের আরেক সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত সম্মানীভাতা হিসেবে ৪০ হাজার টাকা পেয়েছি। বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ করায় আমার ভাগ্যে কোনো প্রকল্প জোটেনি।’
ইউপি সদস্য ইউনুস আলী সরদার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন প্রকল্পে ইউপি সদস্যদের সভাপতি করা হলেও প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে তাঁদের কিছুই জানানো হয় না। শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে তাঁদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। পরে চেয়ারম্যান নিজেই বিল উত্তোলন করেন বলে অভিযোগ তাঁর।
ইউনুস আলী সরদারের দাবি, এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁদের সম্মানীভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার চেয়ারম্যানের
তবে ইউপি সদস্যদের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বাবু। তাঁর ভাষ্য, হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স থেকে পাওয়া অর্থ ছাড়া পরিষদের উল্লেখযোগ্য কোনো আয় নেই। প্রতিবছর পরিষদের আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় সদস্যদের সম্মানীভাতা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, ইউপি সদস্যদের দেওয়া অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।