রবিবারবাংলা: ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

গার্মেন্টস শিল্পে বিদেশি কর্মকর্তা ছাড়াই শতভাগ দেশি কর্মসংস্থান সম্ভব: মাহ্দী আমিন

গার্মেন্টস শিল্পে বিদেশি কর্মকর্তা ছাড়াই শতভাগ দেশি কর্মসংস্থান সম্ভব: মাহ্দী আমিন
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন

গার্মেন্টস শিল্পে বিদেশি কর্মকর্তা ছাড়াই শতভাগ দেশি কর্মসংস্থান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, প্রায় অর্ধশতকের পুরোনো এ শিল্পে এখনো অনেক কারখানা ও বায়িং হাউসে ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশিদের এনে কাজ করানো হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে পুরো শিল্প পরিচালনা করা সম্ভব।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজয় সরণিতে নভোথিয়েটারের একটি হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনোভেশন ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল: ড্রাইভিং কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের মেধাবী ও দক্ষ পেশাজীবীদের একদিন অন্যান্য দেশ উচ্চ পদে নিয়োগ দিয়ে নিয়ে যাবে—এমন একটি টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা ও কাজের পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, একদিকে টেকসই শিল্প প্রবৃদ্ধি ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে, অন্যদিকে তরুণদের জন্য বিপুল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে দেশে সম্মানজনক জীবিকা পাওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও যেন তাদের চাহিদা তৈরি হয়, সে লক্ষ্যেই কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, এমন শিক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন, যা শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা ও পারস্পরিক যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াবে। শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে পাঠ্যক্রম সংস্কার করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্প বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে গভীর আবেগ ও অনুভূতির জায়গা বলেও মন্তব্য করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাঁর দূরদর্শী সিদ্ধান্তে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ এবং নগদ প্রণোদনার মতো নীতি চালু হয়েছিল, যা বর্তমান তৈরি পোশাক শিল্পের অগ্রযাত্রার অন্যতম ভিত্তি।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে পোশাক খাতের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ খাতের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরার ক্ষেত্রে পোশাক খাতের ভূমিকা রয়েছে। এ খাত শুধু অর্থনীতির চালিকাশক্তিই নয়, জাতীয় ঐতিহ্য ও লাখো শ্রমিকের শ্রম-ত্যাগের প্রতীক।

মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ খাতের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গত সাত মাসে বন্ধ থাকা কারখানা পুনরায় চালু করা, উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্পকে আধুনিকায়নের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারকেরা নিয়মিত সংলাপ ও মতবিনিময় করছেন।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতকে টিকিয়ে রাখতে গবেষণা, উন্নয়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষতার ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। শ্রমশক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও উন্নত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নকশায় নতুনত্ব আনতে প্রতিটি কারখানায় গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশ নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করবে। তবে তা হতে হবে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে। প্রযুক্তির অজুহাতে কোনোভাবেই শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়া সমীচীন নয়। মানবসম্পদ ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক সমন্বয়ই সরকারের লক্ষ্য।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্ট সময়োপযোগী ও বিশেষায়িত কোর্স চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও এক বছরের ডিপ্লোমা প্রোগ্রাম চালু করা প্রয়োজন। এতে তরুণরা প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষা নিয়ে এ খাতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক শিক্ষার সঙ্গে কারখানার বাস্তব কাজের সেতুবন্ধন তৈরি করতে স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপের সুযোগ এবং শিল্পখাতের সফল ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি তরুণদের জন্য নিয়মিত ক্যারিয়ার মেলা ও দিকনির্দেশনামূলক কর্মসূচির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তরুণ উদ্ভাবকদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, নতুন স্টার্টআপ প্রকল্পে প্রাথমিক মূলধন ও তহবিল জোগানের বিষয়ে সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। দীর্ঘদিনের সংকট ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার অভাবে অনেক কাজ থমকে ছিল। স্বল্প সময়ে সেসব সংকট পুরোপুরি দূর করা কঠিন হলেও সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সরকারের আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতায় কোনো ঘাটতি নেই।

‘ওয়ান নেশন, ওয়ান ইনোভেশন’ স্লোগানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিপুল তরুণ শক্তি ও উদ্যোক্তা হওয়ার স্পৃহা নিয়ে বাংলাদেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাবে। সরকার যুগোপযোগী ও সহায়ক নীতি প্রণয়ন করবে এবং বেসরকারি খাত তা বাস্তবায়ন করবে। সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

একটি শিল্প এককভাবে সফল হতে পারে না উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, টেকসই সাফল্যের জন্য প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ একটি ইকোসিস্টেম, যেখানে সব অংশীজন একযোগে কাজ করবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনায় বৈশ্বিক ব্র্যান্ড, পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানা মালিক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, ব্যাংকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের একত্রিত করাকে তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘৩৬০ ডিগ্রি’ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস, এক্সপোর্ট বন্ড ও আইটি বিভাগের সদস্য ফারজানা আফরোজ, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির উপাচার্য ইঞ্জিনিয়ার ড. আইয়ুব নবী খান, এইচ অ্যান্ড এমের রিজিওনাল কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমান, এইচএসবিসি বাংলাদেশের করপোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যাংকিংয়ের কান্ট্রি হেড শাদাব হোসেন এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের হেড অব গ্লোবাল অ্যাপারেল সাপ্লাই চেইন আশফাকুর রহমান বক্তব্য দেন।

আলোচনা শেষে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন মাহ্দী আমিন। মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন। আয়োজনে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ ৪৭২ বিদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ ৪৭২ বিদেশি আটক

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কর্ণফুলীতে মাইক্রোবাস-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ৪

কর্ণফুলীতে মাইক্রোবাস-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৪০ যাত্রী নিয়ে জাভা সাগরে নিখোঁজ জাহাজ

২৪০ যাত্রী নিয়ে জাভা সাগরে নিখোঁজ জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারীর মৃত্যু

সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারীর মৃত্যু

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।