কুষ্টিয়ার মিরপুরে ছাতিয়ান ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য মো. আরিফুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে কুষ্টিয়া সেক্টরস্থ বিজিবির ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, একটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর বাড়িতে অস্ত্র ও বিস্ফোরক রেখে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
আরিফুল ইসলাম ছাতিয়ান ইউনিয়নের নওদাকুর্শা গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। তিনি বলেন, সম্প্রতি তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার পাশাপাশি মিথ্যা মামলায় জড়ানোর উদ্দেশ্যে তাঁর বাড়ির পাশে অস্ত্র ও বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়।
তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আশিক আলী, তাঁর কর্মচারী মো. কালু এবং কথিত অস্ত্র ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মজিদ মণ্ডলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর অভিযোগ, ১৪ হাজার টাকার বিনিময়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করে তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে সেগুলো তাঁর বাড়ির পাশে রাখা হয়েছিল।
আরিফুল ইসলাম আরও দাবি করেন, এ ঘটনায় জড়িতদের ইতোমধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে তাঁকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের বিষয়টি উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় আশিক আলী নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তিনি ডেকোরেটর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে তাঁর সঙ্গে আশিক আলীর বিরোধ তৈরি হয় বলে দাবি করেন আরিফুল ইসলাম। সেই বিরোধের জেরেই তাঁকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
আরিফুল ইসলামের ভাষ্য, গত ১১ আগস্ট গভীর রাতে তাঁর বসতবাড়ির পশ্চিম পাশের ভিটেমাটিতে একটি লাল রঙের ব্যাগে দেশীয় তৈরি একটি ওয়ান শুটারগান, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও তিনটি ককটেল গোপনে রেখে যাওয়া হয়।
তিনি বলেন, “একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও যদি এভাবে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে এ ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আশিক আলী ও অন্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।