কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষসহ পরিবারের চারজন নিহত
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষসহ পরিবারের চারজন নিহত.
তোমারে পায়ে ধরি আমার দেবাশীষরে এনি দাও। সব তো নিয়ে নিলে ঠাকুর, ওরে আমার বুক খালি করে চলে গেল রে। আমি কি করে থাকবো বাবা। কত কষ্ট করে তোকে মানুষ করে আজকে কি হলো রে বাবা আমার। আমার দেখার আর কেউ থাকলো না রে বাবা। এমন ভাবেই প্রলাপ করছিলেন কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মা স্বপ্না দত্ত। এ সময় স্বপ্ন দত্ত প্রলাপ করে বলতে থাকেন আমি তো চলে যাবো আমার পাখিরে কে দেখবে বাবা। সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাসায় এখন শোকের মতম। বাড়ির প্রতিটি কোনায় দেবাশীষ ও তার স্ত্রী এবং শিশু সন্তান শর্ণশীষ দত্তের প্রীতি আঁকড়ে ধরে বিলাপ করছে তার স্বজনেরা। বাড়ির একটি কক্ষে বাবা-মার ফেরার অপেক্ষায় সাংবাদিক দেবাশীষ দম্পতির ৮বছর বয়সী কন্যা সন্তান পাখি। এখনো সে বুঝে উঠতে পারেনি কি হারিয়েছে সে। বাবা-মা যে আর কখনো ফিরবে না, ছোট ভাই শর্ণশীষের খেলায় মেতে উঠতে পারবে না সেই সেই অনুভূতি এখনো স্পর্শ করেনি নার্সারি পড়ুয়া এই অবুঝ শিশুকে। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে দেবাশীষের বাবা দিলিপ দত্ত জানান, আগস্টের ৩ তারিখে আমার ছেলে ইন্ডিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কলকাতা থেকে ৪ আগষ্ট ছেলে ও স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে আমার ছেলে বেঙ্গালুরু পৌঁছায় সেখানে বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট ছেলের শশুর আকরাম আলী ও নিজ পরিবারসহ মঙ্গলবার কলকাতায় ফেরেন দেবাশীষ। পরে তারা কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ১৯ আগস্ট বুধবার তার বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। আজই তার এই অবস্থা।আজকেই তার দেশে ফেরার কথা ছিল আর আজকেই তার মৃত্যুর সংবাদ পেলাম আমরা। তিনি বলেন, দিনের শুরুতে আমরা বিষয়টি জানতাম না। পরে এক সাংবাদিক এসে আমার কাছে জানতে চায় কাকা কিছু জানেন নাকি। সে বারবার ফোন দেখছিল। আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছিল না। পরে আমি জোর করলে। সে আমাকে দেবাশীষের ছবি দেখায়। তারপরে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরে দুই দিন আগে স্ট্রোক করা মাকে নিয়ে গিয়ে রাজশাহীতে ডাক্তার দেখানোর কথা। ওই আমাদের পরিবারের উপার্জনের একমাত্র মানুষ। আমরা এখন কিভাবে চলবো।ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তাঁর স্ত্রী আফশানা শিম্মিন (২৫), তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪) নিহত হয়েছেন। নিহতদের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায়।বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে এ খবর কুষ্টিয়ায় পৌঁছালে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকার ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি এশিয়ান টেলিভিশন, নাগরিক টিভিসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ দত্ত স্ত্রী, ছেলে ও শ্বশুরকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরু যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (১৮আগস্ট) তারা কলকাতায় ফেরেন এবং একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। ওই রাতেই হোটেলটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর মো. আকরাম আলীসহ পরিবারের চারজন নিহত হন। তাদের ১৯ আগস্ট বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। দেবাশীষ দত্তের আট বছর বয়সী মেয়ে পাখি কুষ্টিয়ার বাড়িতেই ছিল। ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় সে পরিবারের সঙ্গে ভারতে ছিল না।দেবাশীষের বাল্যবন্ধু ও সহপাঠী এজে সুজন বলেন, আমরা একসাথে নার্সারি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। ওর হাতে আমার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি হয়েছিল। ওর মতো একজন পরোপকারী মানুষ পাওয়া দায়। ওর মত একজন নিষ্ঠাবান সাংবাদিকের স্থান পূরণ করা অসম্ভব। ঘটনা শোনার পর থেকে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। ওর পরিবারকে দেখার মত আর কেউ নেই। দেবাশীষ তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের ব্যক্তি। ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য মহীশূর জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। ভারতের পিটিআই, এনডিটিভিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও অগ্নিকাণ্ডে আট বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে।জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিরা বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার কলকাতায় ফেরেন। পরে তারা কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন।সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।দেবাশীষের মৃত্যুর বিষয়ে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু জানান, দেবাশীষ একজন পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিক ছিলেন। জেলায় সাংবাদিক অঙ্গনে অনেক গ্রুপিং থাকলেও সর্বমহলে তা সমান গ্রহণযোগ্যতা ছিল। কর্মজীবনে একাধিক জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করে আসছে সুনামের সাথে। পাশাপাশি সে একটি স্থানীয় দৈনিকের সম্পাদনায় কাজ করছেন। তারে অকাল প্রয়াণে জেলার সাংবাদিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা তৈরি হলো যা পূরণ হবার নয়। এমত অবস্থায় দেবাশীষসহ ঘটনায় নিহতদের মরদেহ দেশে আনতে আমরা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করছি। এবং কিভাবে এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো যায় সে বিষয়ে আমরা লক্ষ্য রাখবো। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এর মধ্যে কুষ্টিয়ার কেউ আছে সেটা আমার জানা ছিল না। তবে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করতে পারি। মরদেহ দেশে আসলে যা করনীয় আমরা করবো বলে জানান তিনি।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
তোমারে পায়ে ধরি আমার দেবাশীষরে এনি দাও। সব তো নিয়ে নিলে ঠাকুর, ওরে আমার বুক খালি করে চলে গেল রে। আমি কি করে থাকবো বাবা। কত কষ্ট করে তোকে মানুষ করে আজকে কি হলো রে বাবা আমার। আমার দেখার আর কেউ থাকলো না রে বাবা। এমন ভাবেই প্রলাপ করছিলেন কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মা স্বপ্না দত্ত।
এ সময় স্বপ্ন দত্ত প্রলাপ করে বলতে থাকেন আমি তো চলে যাবো আমার পাখিরে কে দেখবে বাবা।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের বাসায় এখন শোকের মতম। বাড়ির প্রতিটি কোনায় দেবাশীষ ও তার স্ত্রী এবং শিশু সন্তান শর্ণশীষ দত্তের প্রীতি আঁকড়ে ধরে বিলাপ করছে তার স্বজনেরা।
বাড়ির একটি কক্ষে বাবা-মার ফেরার অপেক্ষায় সাংবাদিক দেবাশীষ দম্পতির ৮বছর বয়সী কন্যা সন্তান পাখি। এখনো সে বুঝে উঠতে পারেনি কি হারিয়েছে সে। বাবা-মা যে আর কখনো ফিরবে না, ছোট ভাই শর্ণশীষের খেলায় মেতে উঠতে পারবে না সেই সেই অনুভূতি এখনো স্পর্শ করেনি নার্সারি পড়ুয়া এই অবুঝ শিশুকে।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে দেবাশীষের বাবা দিলিপ দত্ত জানান, আগস্টের ৩ তারিখে আমার ছেলে ইন্ডিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কলকাতা থেকে ৪ আগষ্ট ছেলে ও স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে আমার ছেলে বেঙ্গালুরু পৌঁছায় সেখানে বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট ছেলের শশুর আকরাম আলী ও নিজ পরিবারসহ মঙ্গলবার কলকাতায় ফেরেন দেবাশীষ। পরে তারা কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ১৯ আগস্ট বুধবার তার বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। আজই তার এই অবস্থা।আজকেই তার দেশে ফেরার কথা ছিল আর আজকেই তার মৃত্যুর সংবাদ পেলাম আমরা।
তিনি বলেন, দিনের শুরুতে আমরা বিষয়টি জানতাম না। পরে এক সাংবাদিক এসে আমার কাছে জানতে চায় কাকা কিছু জানেন নাকি। সে বারবার ফোন দেখছিল। আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছিল না। পরে আমি জোর করলে। সে আমাকে দেবাশীষের ছবি দেখায়। তারপরে আমরা বিষয়টি জানতে পারি।
তিনি আরও বলেন, দেশে ফিরে দুই দিন আগে স্ট্রোক করা মাকে নিয়ে গিয়ে রাজশাহীতে ডাক্তার দেখানোর কথা। ওই আমাদের পরিবারের উপার্জনের একমাত্র মানুষ। আমরা এখন কিভাবে চলবো।
ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তাঁর স্ত্রী আফশানা শিম্মিন (২৫), তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪) নিহত হয়েছেন। নিহতদের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে এ খবর কুষ্টিয়ায় পৌঁছালে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকার ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি এশিয়ান টেলিভিশন, নাগরিক টিভিসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট দেবাশীষ দত্ত স্ত্রী, ছেলে ও শ্বশুরকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরু যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (১৮আগস্ট) তারা কলকাতায় ফেরেন এবং একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। ওই রাতেই হোটেলটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর মো. আকরাম আলীসহ পরিবারের চারজন নিহত হন। তাদের ১৯ আগস্ট বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। দেবাশীষ দত্তের আট বছর বয়সী মেয়ে পাখি কুষ্টিয়ার বাড়িতেই ছিল। ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় সে পরিবারের সঙ্গে ভারতে ছিল না।
দেবাশীষের বাল্যবন্ধু ও সহপাঠী এজে সুজন বলেন, আমরা একসাথে নার্সারি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছি। ওর হাতে আমার সাংবাদিকতার হাতেখড়ি হয়েছিল। ওর মতো একজন পরোপকারী মানুষ পাওয়া দায়। ওর মত একজন নিষ্ঠাবান সাংবাদিকের স্থান পূরণ করা অসম্ভব। ঘটনা শোনার পর থেকে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। ওর পরিবারকে দেখার মত আর কেউ নেই। দেবাশীষ তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনের ব্যক্তি।
ওয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য মহীশূর জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।
ভারতের পিটিআই, এনডিটিভিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও অগ্নিকাণ্ডে আট বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিরা বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার কলকাতায় ফেরেন। পরে তারা কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুষ্টিয়ার সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও স্থানীয়রা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
দেবাশীষের মৃত্যুর বিষয়ে কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু জানান, দেবাশীষ একজন পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান সাংবাদিক ছিলেন। জেলায় সাংবাদিক অঙ্গনে অনেক গ্রুপিং থাকলেও সর্বমহলে তা সমান গ্রহণযোগ্যতা ছিল। কর্মজীবনে একাধিক জাতীয় প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করে আসছে সুনামের সাথে। পাশাপাশি সে একটি স্থানীয় দৈনিকের সম্পাদনায় কাজ করছেন। তারে অকাল প্রয়াণে জেলার সাংবাদিক অঙ্গনে একটি শূন্যতা তৈরি হলো যা পূরণ হবার নয়। এমত অবস্থায় দেবাশীষসহ ঘটনায় নিহতদের মরদেহ দেশে আনতে আমরা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করছি। এবং কিভাবে এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো যায় সে বিষয়ে আমরা লক্ষ্য রাখবো।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়েছে বলে শুনেছি। কিন্তু এর মধ্যে কুষ্টিয়ার কেউ আছে সেটা আমার জানা ছিল না। তবে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করতে পারি। মরদেহ দেশে আসলে যা করনীয় আমরা করবো বলে জানান তিনি।