রবিবারবাংলা: ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

হাসপাতালের সময় শেষ হলেও শেষ রোগী না দেখে ফেরেন না ডা. রিয়াদ

হাসপাতালের সময় শেষ হলেও শেষ রোগী না দেখে ফেরেন না ডা. রিয়াদ
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা শেষ হলেও অপেক্ষমাণ শিশু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন শিশুরোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মো. রিয়াদ হাসান। শেষ রোগীটি না দেখা পর্যন্ত হাসপাতাল ত্যাগ না করার এই অভ্যাসে রোগী ও স্বজনদের কাছে মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি।

ডা. মো. রিয়াদ হাসান সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগের কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত। এমবিবিএস ও বিসিএস (স্বাস্থ্য) সম্পন্ন করার পর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

প্রতিদিন সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে বিপুলসংখ্যক শিশু রোগী নিয়ে স্বজনেরা চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগীর চাপ থাকলেও নিয়মিত ও সময়মতো দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অপেক্ষমাণ শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন ডা. রিয়াদ।

রোগী ও স্বজনদের ভাষ্য, বহির্বিভাগের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কোনো শিশু চিকিৎসকের কক্ষের বাইরে অপেক্ষা করলে তাকে না দেখে তিনি চলে যান না। প্রতিটি শিশুর শারীরিক সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি অভিভাবকদেরও রোগ ও চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রং-তুলি আর্ট’-এর স্বত্বাধিকারী ও রক্তদাতা মোহেব উল্যাহ বলেন, চিকিৎসকের কাছে গেলে অনেক শিশু ভয় পেয়ে কান্না শুরু করে। তবে ডা. রিয়াদ হাসানের হাসিমুখে কথা বলা ও আন্তরিক আচরণে শিশুরা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়। অভিভাবকদের প্রতিও তাঁর ধৈর্যশীল আচরণ এবং রোগ সম্পর্কে সহজভাবে বোঝানোর বিষয়টি তাদের আশ্বস্ত করে।

নিজের পেশাগত দায়িত্ব সম্পর্কে ডা. মো. রিয়াদ হাসান বলেন, ‘চিকিৎসা কেবল কোনো পেশা নয়, এটি মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার একটি প্রতিশ্রুতি। শিশুরা নিজেদের কষ্ট সবসময় গুছিয়ে বলতে পারে না। তাই তাদের চিকিৎসায় প্রেসক্রিপশনের পাশাপাশি প্রয়োজন ধৈর্য ও আন্তরিকতা।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের সময় শেষ হয়ে গেলেও বাইরে কোনো অসুস্থ শিশু অপেক্ষা করছে জানতে পারলে কাজ শেষ না করে উঠতে পারি না। একটি শিশুর সুস্থ হাসি এবং স্বজনের মুখের স্বস্তিই একজন চিকিৎসকের প্রকৃত প্রাপ্তি।’

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সহকর্মীও ডা. রিয়াদের দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের আস্থা অর্জন করা সহজ নয়। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে ডা. রিয়াদ হাসান যে দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন, তা অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার।

চিকিৎসকদের মানবিক আচরণ ও দায়িত্বশীলতা স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাসপাতালের ব্যস্ততার মধ্যেও রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার চর্চা অব্যাহত থাকলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ ৪৭২ বিদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ ৪৭২ বিদেশি আটক

ঢাকা প্রোব ডেস্ক
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কর্ণফুলীতে মাইক্রোবাস-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ৪

কর্ণফুলীতে মাইক্রোবাস-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৪০ যাত্রী নিয়ে জাভা সাগরে নিখোঁজ জাহাজ

২৪০ যাত্রী নিয়ে জাভা সাগরে নিখোঁজ জাহাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।