বর্ষায় সাপের ছোবল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাণ গেল শিশুর, চিকিৎসাধীন ৩
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
বর্ষায় সাপের ছোবল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাণ গেল শিশুর, চিকিৎসাধীন ৩.
বর্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক ঘটনায় সাপের কামড়ে নুরুদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে দুই নারী ও এক পুরুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী।নিহত নুরুদ্দিন কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের আমখার গ্রামের সোহেল মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির পাশের একটি জমিতে মাছ ধরতে গেলে একটি সাপ তাকে কামড় দেয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।এদিকে সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামের শান্তা (২৩), নবীনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সানোয়ারা বেগম (৪২) এবং সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের পুথাই গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৩৫)।শান্তার মা নয়নতারা জানান, রোববার ভোরে টিনশেড ঘরের মেঝেতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শান্তাকে সাপে কামড় দেয়। প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও পরে ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।অন্যদিকে বিকেলে বাড়ির জমি থেকে লাকড়ি আনতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হন সানোয়ারা বেগম। প্রথমে তাকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নেওয়া হলেও পরে রাত ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।এ ছাড়া সদর উপজেলার পুথাই গ্রামের শহিদুল ইসলাম নিজ ঘরে শুয়ে থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ে আহত হন। রাতেই পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত তিনজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে এবং রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, সাপে কামড় দিলে কোনোভাবেই ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি হাসপাতালে নিতে হবে। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গেলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।তিনি বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সাপে কামড়ের ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
বর্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক ঘটনায় সাপের কামড়ে নুরুদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে দুই নারী ও এক পুরুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী।
নিহত নুরুদ্দিন কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের আমখার গ্রামের সোহেল মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ির পাশের একটি জমিতে মাছ ধরতে গেলে একটি সাপ তাকে কামড় দেয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে সাপের কামড়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামের শান্তা (২৩), নবীনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের সানোয়ারা বেগম (৪২) এবং সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের পুথাই গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৩৫)।
শান্তার মা নয়নতারা জানান, রোববার ভোরে টিনশেড ঘরের মেঝেতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শান্তাকে সাপে কামড় দেয়। প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও পরে ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তাকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্যদিকে বিকেলে বাড়ির জমি থেকে লাকড়ি আনতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হন সানোয়ারা বেগম। প্রথমে তাকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নেওয়া হলেও পরে রাত ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এ ছাড়া সদর উপজেলার পুথাই গ্রামের শহিদুল ইসলাম নিজ ঘরে শুয়ে থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ে আহত হন। রাতেই পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত তিনজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে এবং রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, সাপে কামড় দিলে কোনোভাবেই ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি হাসপাতালে নিতে হবে। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া গেলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
তিনি বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব থেকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সাপে কামড়ের ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়ার আহ্বান জানান।