ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অর্ধেক গ্যাস সংযোগে লিক, প্রতিদিন অপচয় ৩–৪ মিলিয়ন ঘনফুট.
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ২২ হাজারের বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাস গ্রাহকের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের সরবরাহ লাইনে ঝুঁকিপূর্ণ লিক বা ছিদ্র রয়েছে। এসব ছিদ্র দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস বের হয়ে অপচয় হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে, প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এভাবে অপচয় হচ্ছে।বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) পরিচালনা ও বিতরণ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শফিকুল হক সম্প্রতি একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বিজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের গ্যাস বিতরণ পাইপলাইনগুলোর বেশিরভাগই ৪০ বছরের বেশি পুরোনো। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আবাসিক গ্রাহকের বাড়ির আঙিনা ও বাসাবাড়িতে থাকা জিআই পাইপলাইনের বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র তৈরি হয়েছে। এসব ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে বাতাসে মিশে যাচ্ছে।কর্মকর্তারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে গ্রাহকদের প্রকৃত চাহিদা দৈনিক প্রায় ৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ করা অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মূলত পাইপলাইনের বিভিন্ন লিক দিয়ে অপচয় হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।লিক শনাক্ত ও মেরামতের জন্য বিজিডিসিএলের দুটি পৃথক দল মাঠে কাজ করছে। এর একটি দল গ্রাহকদের বাসাবাড়ির জিআই লাইন পরীক্ষা করছে। কোথাও লিক পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। চিঠিতে বিজিডিসিএলের তালিকাভুক্ত ‘এএনডিসি’ ঠিকাদারের মাধ্যমে নিজ উদ্যোগে দ্রুত লাইন মেরামতের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।অন্য দলটি সড়কের নিচে থাকা প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো এমএস পাইপলাইনের ছিদ্র ও ত্রুটি শনাক্ত করে নিজ দায়িত্বে সংস্কার করছে।তবে বাসাবাড়ির হাউজ লাইনের লিক মেরামতে গ্রাহকদের মধ্যে অনীহা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আবাসিক গ্রাহকেরা ডাবল চুলার জন্য মাসে নির্ধারিত ১ হাজার ৮০ টাকা বিল পরিশোধ করায় অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে নিজেদের পাইপলাইন মেরামতে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন না।গ্রাহকদের এ বিষয়ে সচেতন হয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রকৌশলী শফিকুল হক। তিনি বলেন, ‘এই গ্যাস আমাদের এবং পুরো দেশের সম্পদ। পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে যে গ্যাস বের হয়ে যাচ্ছে, তা কারও কাজে আসছে না। এতে জাতীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে। গ্রাহকেরা নিজ খরচে দ্রুত লিকগুলো মেরামত করলে গ্যাসের অপচয় কমবে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’তিনি আরও বলেন, লাইন মেরামতের নামে বিজিডিসিএলের কোনো ঠিকাদার, দালাল বা তৃতীয় পক্ষ অতিরিক্ত বা অনৈতিক সুবিধা দাবি করলে সরাসরি গ্যাস অফিসে লিখিত অভিযোগ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ২২ হাজারের বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্যাস গ্রাহকের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের সরবরাহ লাইনে ঝুঁকিপূর্ণ লিক বা ছিদ্র রয়েছে। এসব ছিদ্র দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস বের হয়ে অপচয় হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে, প্রতিদিন প্রায় ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এভাবে অপচয় হচ্ছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) পরিচালনা ও বিতরণ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শফিকুল হক সম্প্রতি একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের গ্যাস বিতরণ পাইপলাইনগুলোর বেশিরভাগই ৪০ বছরের বেশি পুরোনো। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ আবাসিক গ্রাহকের বাড়ির আঙিনা ও বাসাবাড়িতে থাকা জিআই পাইপলাইনের বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র তৈরি হয়েছে। এসব ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হয়ে বাতাসে মিশে যাচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে গ্রাহকদের প্রকৃত চাহিদা দৈনিক প্রায় ৬ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ৯ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ করা অতিরিক্ত ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মূলত পাইপলাইনের বিভিন্ন লিক দিয়ে অপচয় হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লিক শনাক্ত ও মেরামতের জন্য বিজিডিসিএলের দুটি পৃথক দল মাঠে কাজ করছে। এর একটি দল গ্রাহকদের বাসাবাড়ির জিআই লাইন পরীক্ষা করছে। কোথাও লিক পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। চিঠিতে বিজিডিসিএলের তালিকাভুক্ত ‘এএনডিসি’ ঠিকাদারের মাধ্যমে নিজ উদ্যোগে দ্রুত লাইন মেরামতের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
অন্য দলটি সড়কের নিচে থাকা প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো এমএস পাইপলাইনের ছিদ্র ও ত্রুটি শনাক্ত করে নিজ দায়িত্বে সংস্কার করছে।
তবে বাসাবাড়ির হাউজ লাইনের লিক মেরামতে গ্রাহকদের মধ্যে অনীহা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আবাসিক গ্রাহকেরা ডাবল চুলার জন্য মাসে নির্ধারিত ১ হাজার ৮০ টাকা বিল পরিশোধ করায় অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে নিজেদের পাইপলাইন মেরামতে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন না।
গ্রাহকদের এ বিষয়ে সচেতন হয়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রকৌশলী শফিকুল হক। তিনি বলেন, ‘এই গ্যাস আমাদের এবং পুরো দেশের সম্পদ। পাইপলাইনের ছিদ্র দিয়ে যে গ্যাস বের হয়ে যাচ্ছে, তা কারও কাজে আসছে না। এতে জাতীয় সম্পদের অপচয় হচ্ছে। গ্রাহকেরা নিজ খরচে দ্রুত লিকগুলো মেরামত করলে গ্যাসের অপচয় কমবে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, লাইন মেরামতের নামে বিজিডিসিএলের কোনো ঠিকাদার, দালাল বা তৃতীয় পক্ষ অতিরিক্ত বা অনৈতিক সুবিধা দাবি করলে সরাসরি গ্যাস অফিসে লিখিত অভিযোগ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।