রবিবারবাংলা: ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

আশাশুনিতে বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

আশাশুনিতে বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে টেকসই বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের যোগসাজশে সিডিউলবহির্ভূত কাজ, নিম্নমানের সিসি ব্লক তৈরি, বাতিল প্যাকেজের কাজ অন্যত্র বাস্তবায়ন এবং সরকারি নথিতে অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে এসব অভিযোগের বেশ কিছু চিত্রও দেখা গেছে। বিশেষ করে আগস্টে তৈরি করা সিসি ব্লকে আগের অর্থবছরের জুন মাসের তারিখ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রকল্পের কাজের সময়, অগ্রগতি ও বিল-ভাউচার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২-এর আশাশুনি উপবিভাগের আওতায় জাইকার অর্থায়নে চারটি প্যাকেজে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে ২ নম্বর প্যাকেজের হাজরাখালী এলাকার কাজ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো। এ প্যাকেজের জন্য নতুন করে দরপত্র প্রক্রিয়াও চলছে।

তবে অভিযোগ রয়েছে, ২ নম্বর প্যাকেজ বাতিল হওয়ার পরও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কাজ অন্য ঠিকাদারের মাধ্যমে ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজের আওতাধীন কোলা এলাকায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সাধারণত কোনো প্যাকেজের কাজ অন্য প্যাকেজ বা এলাকায় স্থানান্তর করা হলে এর জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন ও লিখিত আদেশ থাকার কথা। কিন্তু সরেজমিনে বিষয়টি জানতে চাইলে কর্মস্থলে থাকা কর্মচারীরা তাৎক্ষণিকভাবে এমন কোনো অফিস আদেশ বা ২ নম্বর প্যাকেজ বাতিলের কাগজ দেখাতে পারেননি।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, বাতিল হওয়া একটি প্যাকেজের কাজ কীভাবে অন্য প্যাকেজের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এর আর্থিক ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ভিত্তি কী।

১২–১৪ ঘণ্টাতেই খুলে ফেলা হচ্ছে ফর্মা

প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সিসি ব্লক তৈরিতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কাস্টিংয়ের পর প্রয়োজনীয় সময় না দিয়েই মাত্র ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্লকের ফর্মা খুলে ফেলা হচ্ছে। পরদিনই অপেক্ষাকৃত কাঁচা ব্লক মাটি থেকে তুলে সারিবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে।

ব্লকের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে যথাযথ কিউরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মাঠপর্যায়ে ব্লক তৈরির পর নিয়মিত ও যথাযথ কিউরিং হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নিম্নমানের ব্লক ব্যবহার করা হলে জোয়ার, ঢেউ, নদীর স্রোত কিংবা ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগে বাঁধের স্থায়িত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।

আগস্টে তৈরি ব্লকে জুনের তারিখ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সিসি ব্লকের তারিখ নিয়ে। গত ২৭ আগস্ট সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই সময়ে তৈরি করা ব্লকে আগের অর্থবছরের জুন ২০২৬-এর তারিখ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

আগস্টে তৈরি হওয়া ব্লকে জুন মাসের তারিখ কেন ব্যবহার করা হচ্ছে—এ প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকৃত কাজের সময় ও তারিখ গোপন করে আগের অর্থবছরের তারিখ ব্যবহারের মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি দেখানো কিংবা পূর্ববর্তী অর্থবছরের বিল-সংক্রান্ত হিসাব সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করা হতে পারে।

তবে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রকল্পের বিল-ভাউচার, মেজারমেন্ট বুক (এমবি), ব্লক কাস্টিং রেজিস্টার, স্টক রেজিস্টার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি যাচাই করা প্রয়োজন।

তদারকি নিয়েও প্রশ্ন

প্রকল্প এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনের সময় জাইকা বা পাউবোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো তদারকি কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। এতে মাঠপর্যায়ে কাজের মান, ব্লকের কিউরিং, কাস্টিংয়ের সময় ও তারিখ এবং নির্মাণকাজের পরিমাণ যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আরিফুজ্জামান, সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী (এক্সইএন) আব্দুর রহমান তাযকিয়া, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) রাশিদুল ইসলাম এবং শাখা কর্মকর্তা (এসও) আব্দুল আলিমের দায়িত্ব ও তদারকি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকল্পের নথিপত্র যাচাই ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

‘অনিয়ম হলে খতিয়ে দেখা হবে’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, চারটি প্যাকেজের মধ্যে ২ নম্বর প্যাকেজের হাজরাখালী এলাকার কাজ বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে দরপত্র প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, ‘বাতিল হওয়া প্যাকেজের কাজ যদি কেউ ভিন্নভাবে করে থাকে, তাহলে সেটার দায়ভার আমাদের নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’ নিম্নমানের ব্লক তৈরির অভিযোগও খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, ‘বাঁধ আমাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য। এখানে নিম্নমানের কাজ হলে দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষকে তার খেসারত দিতে হবে। কাজের মান ও অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা দরকার।’

আরেক বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্পের টাকা কোথায় কীভাবে খরচ হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষ জানতে চায়। আমরা চাই কাজটি ভালোভাবে হোক এবং বাঁধ যেন দীর্ঘদিন টিকে থাকে। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

আশাশুনি উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীর প্রবল স্রোত থেকে জনপদ রক্ষায় বাঁধই এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তাব্যবস্থা। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার বা অনিয়ম হলে এর প্রভাব শুধু সরকারি অর্থের অপচয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বড় ধরনের পরিবেশগত ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

এ অবস্থায় প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে প্রকল্পের দরপত্র নথি, কার্যাদেশ, ২ নম্বর প্যাকেজ বাতিলের আদেশ, অন্য প্যাকেজে কাজ স্থানান্তরের অনুমোদন, মেজারমেন্ট বুক, বিল-ভাউচার, ব্লক কাস্টিং রেজিস্টার, কিউরিং রেকর্ড ও মান পরীক্ষার প্রতিবেদন যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন, পাউবোর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকল্পের প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরবে। অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁদের।

কারণ, এই বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের ক্ষতি শুধু সরকারি অর্থের অপচয়েই সীমাবদ্ধ নয়। কোনো দুর্যোগে বাঁধ ভেঙে গেলে এর চরম মূল্য দিতে হতে পারে হাজারো উপকূলবাসীকে—জীবন, বসতভিটা ও সম্পদ দিয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ইস্যুতে সমঝোতা, মানতে হবে যে শর্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ইস্যুতে সমঝোতা, মানতে হবে যে শর্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, উপকৃত ৮৬১ রোগী

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, উপকৃত ৮৬১ রোগী

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।