কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের সংকটে ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
ছবি প্রতিনিধি
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধের সংকটে ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা.
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট চলছে। সরকারি এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন পেলেও অনেক ক্ষেত্রেই হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। ফলে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের রোগীদের বাইরে থেকে বাড়তি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী জানান, জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেশ কিছু ওষুধ নিয়মিত পাওয়া যায় না। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে হাসপাতালের ফার্মেসিতে গেলেও সরবরাহ না থাকায় স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাঁদের। এতে চিকিৎসার খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন অসচ্ছল রোগীরা।বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, “সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই ‘ওষুধ নেই’ বলে জানানো হয়। দরিদ্র মানুষের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক।”স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের পাশাপাশি ওষুধের সংকটও রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।হাসপাতালের স্টোরকিপার মো. রেজাউল করিম বলেন, “১২ আগস্টের আগে ওষুধের কোনো সরবরাহ ছিল না। ১৬ আগস্ট থেকে ওষুধ দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে প্যারাসিটামল সিরাপ পাওয়া যায়নি। চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের ওষুধও পাওয়া যায়নি। ইনজেকশনের ক্ষেত্রেও সবগুলো সরবরাহ পাওয়া যায়নি।”তিনি আরও বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এত বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়।হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রায়ই রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। পর্যাপ্ত ওষুধ থাকলেও অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা সমন্বয় করে দিতে হয়। এভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে।কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং বলেন, “কিছু ওষুধের সংকট রয়েছে। সরকারি ইডিসিএল (EDCL) কোম্পানি থেকে আমাদের ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়। এর বাইরে থেকে ওষুধ আনার সুযোগ নেই। আমরা ৮০টি আইটেমের চাহিদা দিয়েছিলাম। এর মধ্যে ৬১টি আইটেম পেয়েছি, তাও আংশিকভাবে।”তিনি বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। পাশাপাশি বহির্বিভাগে কয়েক শ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়। এ কারণে ওষুধের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তবে কিছুদিনের মধ্যে আবার ওষুধের সরবরাহ পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।স্থানীয়দের দাবি, কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীর চাপ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটও দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। এতে সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট চলছে। সরকারি এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন পেলেও অনেক ক্ষেত্রেই হাসপাতালের ফার্মেসি থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। ফলে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের রোগীদের বাইরে থেকে বাড়তি দামে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী জানান, জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেশ কিছু ওষুধ নিয়মিত পাওয়া যায় না। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে হাসপাতালের ফার্মেসিতে গেলেও সরবরাহ না থাকায় স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাঁদের। এতে চিকিৎসার খরচ বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন অসচ্ছল রোগীরা।
বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী বলেন, “সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে ওষুধ পাওয়ার কথা। কিন্তু অধিকাংশ সময়ই ‘ওষুধ নেই’ বলে জানানো হয়। দরিদ্র মানুষের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটের পাশাপাশি ওষুধের সংকটও রয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতালের স্টোরকিপার মো. রেজাউল করিম বলেন, “১২ আগস্টের আগে ওষুধের কোনো সরবরাহ ছিল না। ১৬ আগস্ট থেকে ওষুধ দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে প্যারাসিটামল সিরাপ পাওয়া যায়নি। চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের ওষুধও পাওয়া যায়নি। ইনজেকশনের ক্ষেত্রেও সবগুলো সরবরাহ পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এত বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামাল দিতে গিয়ে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়।
হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রায়ই রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। পর্যাপ্ত ওষুধ থাকলেও অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা সমন্বয় করে দিতে হয়। এভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং বলেন, “কিছু ওষুধের সংকট রয়েছে। সরকারি ইডিসিএল (EDCL) কোম্পানি থেকে আমাদের ওষুধ সংগ্রহ করতে হয়। এর বাইরে থেকে ওষুধ আনার সুযোগ নেই। আমরা ৮০টি আইটেমের চাহিদা দিয়েছিলাম। এর মধ্যে ৬১টি আইটেম পেয়েছি, তাও আংশিকভাবে।”
তিনি বলেন, প্রতিদিন হাসপাতালে শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। পাশাপাশি বহির্বিভাগে কয়েক শ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়। এ কারণে ওষুধের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। তবে কিছুদিনের মধ্যে আবার ওষুধের সরবরাহ পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রোগীর চাপ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটও দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। এতে সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।