পর্যটক যায় হাতে গোনা, মাছেই চলে জীবন— অস্তিত্বের লড়াইয়ে টুভালু
ফিচার ডেস্ক
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ PM
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
পর্যটক যায় হাতে গোনা, মাছেই চলে জীবন— অস্তিত্বের লড়াইয়ে টুভালু.
চারিদিকে সীমাহীন নীল জলরাশি। মাঝখানে ছোট্ট এক টুকরো নির্জনতা। মানচিত্রের পাতায় আতশকাচ দিয়ে খুঁজলেও যাকে সহজে চোখে পড়ে না। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জেগে থাকা সেই নির্জন পুতুলরাজ্যের নাম টুভালু। পৃথিবীর সবচেয়ে কম পরিদর্শিত এই ক্ষুদ্র দেশে বছরে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন পর্যটকের পা পড়ে।নয়টি ক্ষুদ্র প্রবাল দ্বীপ আর অ্যাটোল নিয়ে গড়ে উঠেছে এই দ্বীপরাষ্ট্র। দেশটির মোট আয়তন মাত্র ২৬ বর্গকিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর চতুর্থ ক্ষুদ্রতম দেশ। বিশাল মহাসাগরের বুকে একলা ভেসে থাকা এই রাজত্বে নাগরিক বলতে আছেন মাত্র ১১ হাজার মানুষ। জনসংখ্যা আর আয়তনের এই ক্ষুদ্র রূপ দেখে দেশটিকে সহজেই এক রূপকথার পুতুলরাজ্য বলে ভুল হতে পারে।এখানে শহরের কোনো হাঁসফাঁস কোলাহল নেই। নেই ব্যস্ত রাস্তার ট্রাফিক জ্যাম কিংবা ইট-কাঠের দানবীয় অট্টালিকা। এখানকার জীবনযাত্রা অত্যন্ত শান্ত, ধীরগতির এবং সহজ-সরল। পুরো দেশজুড়ে যেন এক নিবিড় পারিবারিক আবহ ছড়িয়ে আছে। একে অপরের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই এখানকার মূল নিয়ম। প্রশান্ত মহাসাগরের গর্জন ছাড়া এই দেশে আর কোনো উচ্চশব্দ কানে আসে না।প্রকৃতি এই দেশকে নীল সমুদ্র দিয়েছে অকৃপণ হাতে, কিন্তু দিয়েছে এক কঠিন বাস্তবতা। সমুদ্রের প্রবাল মাটি হওয়ায় টুভালুতে কোনো স্বাভাবিক কৃষিকাজ হয় না। নেই কোনো ধান বা গমের খেত। সমুদ্রই এখানকার মানুষের প্রাণ। এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা এবং খাদ্যের উৎস সমুদ্রের তাজা মাছ।মাছের পাশাপাশি টুভালুর মানুষের আরেকটি ঐতিহ্যবাহী খাবারের উৎস হলো 'পুলাকা'। এটি এক ধরনের বিশেষ কচুজাতীয় মূল, যা লবণাক্ত মাটিতে বিশাল গর্ত খুঁড়ে পরম যত্নে চাষ করা হয়। এ ছাড়া দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে নারিকেল, কলা এবং রুটিফল বা ব্রেডফ্রুট বড় ভূমিকা পালন করে। প্রযুক্তি আর আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া থেকে দূরে থেকে প্রকৃতি ও সমুদ্রের ওপর নির্ভর করেই টিকে আছে টুভালুর মানুষ।তবে টুভালুর গল্প শুধু শান্ত জীবন আর সমুদ্রের সৌন্দর্যের নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক করুণ অস্তিত্ব সংকট। এই দেশটির সবচেয়ে নাটকীয় আর ভীতিকর দিক হলো এর উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দেশটির সর্বোচ্চ স্থান মাত্র কয়েক মিটার উঁচুতে অবস্থিত।বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক মাশুল গুনছে এই নির্দোষ দেশটি। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে প্রতিনিয়ত সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে। জোয়ারের পানি এখন সহজেই উপচে পড়ে লোকালয়ে ঢুকছে। একটু একটু করে তলিয়ে যাচ্ছে দেশটির প্রবাল সৈকত আর বসতভিটা। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলতি শতকের শেষ নাগাদ পুরো টুভালুই হয়তো মানচিত্র থেকে মুছে গিয়ে তলিয়ে যাবে সাগরের অতল গহ্বরে।এক অদ্ভুত সুন্দর কিন্তু অস্তিত্ব সংকটে থাকা এক নিঃসঙ্গ দেশ এই টুভালু। সময় কাটছে তার প্রহর গুণে। একদিকে সাগরের নীল রূপ রূপকথার মতো টানে, অন্যদিকে সেই একই সাগরের ঢেউ প্রতিদিন তার মুছে যাওয়ার বার্তা দিয়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের এক নির্মম সাক্ষী হয়ে নীল জলরাশির বুকে আজও একলা জেগে রয়েছে টুভালু।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
চারিদিকে সীমাহীন নীল জলরাশি। মাঝখানে ছোট্ট এক টুকরো নির্জনতা। মানচিত্রের পাতায় আতশকাচ দিয়ে খুঁজলেও যাকে সহজে চোখে পড়ে না। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জেগে থাকা সেই নির্জন পুতুলরাজ্যের নাম টুভালু। পৃথিবীর সবচেয়ে কম পরিদর্শিত এই ক্ষুদ্র দেশে বছরে হাতে গোনা মাত্র কয়েকজন পর্যটকের পা পড়ে।
নয়টি ক্ষুদ্র প্রবাল দ্বীপ আর অ্যাটোল নিয়ে গড়ে উঠেছে এই দ্বীপরাষ্ট্র। দেশটির মোট আয়তন মাত্র ২৬ বর্গকিলোমিটার। আয়তনের দিক থেকে এটি পৃথিবীর চতুর্থ ক্ষুদ্রতম দেশ। বিশাল মহাসাগরের বুকে একলা ভেসে থাকা এই রাজত্বে নাগরিক বলতে আছেন মাত্র ১১ হাজার মানুষ। জনসংখ্যা আর আয়তনের এই ক্ষুদ্র রূপ দেখে দেশটিকে সহজেই এক রূপকথার পুতুলরাজ্য বলে ভুল হতে পারে।
এখানে শহরের কোনো হাঁসফাঁস কোলাহল নেই। নেই ব্যস্ত রাস্তার ট্রাফিক জ্যাম কিংবা ইট-কাঠের দানবীয় অট্টালিকা। এখানকার জীবনযাত্রা অত্যন্ত শান্ত, ধীরগতির এবং সহজ-সরল। পুরো দেশজুড়ে যেন এক নিবিড় পারিবারিক আবহ ছড়িয়ে আছে। একে অপরের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোই এখানকার মূল নিয়ম। প্রশান্ত মহাসাগরের গর্জন ছাড়া এই দেশে আর কোনো উচ্চশব্দ কানে আসে না।
প্রকৃতি এই দেশকে নীল সমুদ্র দিয়েছে অকৃপণ হাতে, কিন্তু দিয়েছে এক কঠিন বাস্তবতা। সমুদ্রের প্রবাল মাটি হওয়ায় টুভালুতে কোনো স্বাভাবিক কৃষিকাজ হয় না। নেই কোনো ধান বা গমের খেত। সমুদ্রই এখানকার মানুষের প্রাণ। এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা এবং খাদ্যের উৎস সমুদ্রের তাজা মাছ।
মাছের পাশাপাশি টুভালুর মানুষের আরেকটি ঐতিহ্যবাহী খাবারের উৎস হলো 'পুলাকা'। এটি এক ধরনের বিশেষ কচুজাতীয় মূল, যা লবণাক্ত মাটিতে বিশাল গর্ত খুঁড়ে পরম যত্নে চাষ করা হয়। এ ছাড়া দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে নারিকেল, কলা এবং রুটিফল বা ব্রেডফ্রুট বড় ভূমিকা পালন করে। প্রযুক্তি আর আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া থেকে দূরে থেকে প্রকৃতি ও সমুদ্রের ওপর নির্ভর করেই টিকে আছে টুভালুর মানুষ।
তবে টুভালুর গল্প শুধু শান্ত জীবন আর সমুদ্রের সৌন্দর্যের নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক করুণ অস্তিত্ব সংকট। এই দেশটির সবচেয়ে নাটকীয় আর ভীতিকর দিক হলো এর উচ্চতা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দেশটির সর্বোচ্চ স্থান মাত্র কয়েক মিটার উঁচুতে অবস্থিত।
বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক মাশুল গুনছে এই নির্দোষ দেশটি। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে প্রতিনিয়ত সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে। জোয়ারের পানি এখন সহজেই উপচে পড়ে লোকালয়ে ঢুকছে। একটু একটু করে তলিয়ে যাচ্ছে দেশটির প্রবাল সৈকত আর বসতভিটা। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলতি শতকের শেষ নাগাদ পুরো টুভালুই হয়তো মানচিত্র থেকে মুছে গিয়ে তলিয়ে যাবে সাগরের অতল গহ্বরে।
এক অদ্ভুত সুন্দর কিন্তু অস্তিত্ব সংকটে থাকা এক নিঃসঙ্গ দেশ এই টুভালু। সময় কাটছে তার প্রহর গুণে। একদিকে সাগরের নীল রূপ রূপকথার মতো টানে, অন্যদিকে সেই একই সাগরের ঢেউ প্রতিদিন তার মুছে যাওয়ার বার্তা দিয়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের এক নির্মম সাক্ষী হয়ে নীল জলরাশির বুকে আজও একলা জেগে রয়েছে টুভালু।