বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে মাছের আকাল, লোকসানে তীরে ফিরছেন জেলেরা
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে মাছের আকাল, লোকসানে তীরে ফিরছেন জেলেরা.
বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরে ফিরছে শত শত মাছধরা ট্রলার। প্রত্যাশিত মাছ না পাওয়ায় মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই অনেক ট্রলারকে তীরে ফিরতে হচ্ছে। এতে প্রতিটি ট্রলারের মালিককে গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা লোকসান।বৃহস্পতিবার মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দর ঘুরে দেখা যায়, খাপড়াভাঙ্গা নদীর ঘাটে নোঙর করে আছে শত শত মাছধরা ট্রলার। কোনো কোনো ট্রলার থেকে সামান্য মাছ খালাস করা হলেও অধিকাংশ ট্রলারই প্রায় মাছশূন্য। আবার কিছু ট্রলার জ্বালানি, বরফ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে জেলে ও ট্রলার মালিকদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।জেলে ছগির বলেন, কয়েক দিন সাগরে অবস্থান করেও অনেক সময় জাল ফেলে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে সাগরে অবস্থান করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাধ্য হয়েই তীরে ফিরতে হচ্ছে।সাগর মাঝি বলেন, সাধারণত একটি মাছধরা ট্রলার সাগরে যাওয়ার আগে আট থেকে ১০ দিনের খাদ্যসামগ্রী, বরফ, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করে। এতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু সাগরে যাওয়ার পর বৈরী আবহাওয়া ও মাছের সংকটে অনেক ট্রলার নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসছে।জেলেদের কাওছার, সুজন ও অনিল মাঝি জানান, সাগরে যাওয়ার আগে অনেক সময় ধারদেনা করে প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই করতে হয়। ট্রলার ফিরে এলে মাছ বিক্রির অর্থ দিয়ে সেই খরচ পরিশোধের আশা থাকে। কিন্তু মাছ না পেয়ে ফিরে আসায় সেই প্রত্যাশাও পূরণ হচ্ছে না। এতে ট্রলার মালিকদের পাশাপাশি জেলেদের জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে।ট্রলার মালিক আব্দুর জব্বার বলেন, একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে জ্বালানি, বরফ ও খাবারসহ বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। সাধারণত সাত-আট দিনের প্রস্তুতি নিয়ে ট্রলার সাগরে পাঠানো হয়। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকলে এবং মাছের আকাল দেখা দিলে দুই-তিন দিনের মধ্যে মাছ ছাড়াই ফিরতে হয়। এতে খরচের টাকাও ওঠে না।সাগরে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরাও। জেলেদের কাছ থেকে মাছ সংগ্রহ করে আড়তে বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বরফকল, পরিবহন শ্রমিক, জাল বিক্রেতা, জাল মেরামতকারী ও আড়ত শ্রমিকদের কাজও কমে গেছে।মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাগরে মাছের পরিমাণ কমে গেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পুরো মৎস্য অর্থনীতিতে। ট্রলার মালিক, জেলে, আড়তদার, মাছ পরিবহনকারী ও শ্রমিক—সবাই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতির মুখে পড়েন।এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরে ফিরছে শত শত মাছধরা ট্রলার। প্রত্যাশিত মাছ না পাওয়ায় মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই অনেক ট্রলারকে তীরে ফিরতে হচ্ছে। এতে প্রতিটি ট্রলারের মালিককে গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা লোকসান।
বৃহস্পতিবার মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দর ঘুরে দেখা যায়, খাপড়াভাঙ্গা নদীর ঘাটে নোঙর করে আছে শত শত মাছধরা ট্রলার। কোনো কোনো ট্রলার থেকে সামান্য মাছ খালাস করা হলেও অধিকাংশ ট্রলারই প্রায় মাছশূন্য। আবার কিছু ট্রলার জ্বালানি, বরফ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে জেলে ও ট্রলার মালিকদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা।
জেলে ছগির বলেন, কয়েক দিন সাগরে অবস্থান করেও অনেক সময় জাল ফেলে কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে সাগরে অবস্থান করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাধ্য হয়েই তীরে ফিরতে হচ্ছে।
সাগর মাঝি বলেন, সাধারণত একটি মাছধরা ট্রলার সাগরে যাওয়ার আগে আট থেকে ১০ দিনের খাদ্যসামগ্রী, বরফ, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করে। এতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু সাগরে যাওয়ার পর বৈরী আবহাওয়া ও মাছের সংকটে অনেক ট্রলার নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসছে।
জেলেদের কাওছার, সুজন ও অনিল মাঝি জানান, সাগরে যাওয়ার আগে অনেক সময় ধারদেনা করে প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই করতে হয়। ট্রলার ফিরে এলে মাছ বিক্রির অর্থ দিয়ে সেই খরচ পরিশোধের আশা থাকে। কিন্তু মাছ না পেয়ে ফিরে আসায় সেই প্রত্যাশাও পূরণ হচ্ছে না। এতে ট্রলার মালিকদের পাশাপাশি জেলেদের জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ট্রলার মালিক আব্দুর জব্বার বলেন, একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে জ্বালানি, বরফ ও খাবারসহ বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। সাধারণত সাত-আট দিনের প্রস্তুতি নিয়ে ট্রলার সাগরে পাঠানো হয়। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকলে এবং মাছের আকাল দেখা দিলে দুই-তিন দিনের মধ্যে মাছ ছাড়াই ফিরতে হয়। এতে খরচের টাকাও ওঠে না।
সাগরে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৎস্য ব্যবসায়ীরাও। জেলেদের কাছ থেকে মাছ সংগ্রহ করে আড়তে বিক্রি করা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বরফকল, পরিবহন শ্রমিক, জাল বিক্রেতা, জাল মেরামতকারী ও আড়ত শ্রমিকদের কাজও কমে গেছে।
মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাগরে মাছের পরিমাণ কমে গেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পুরো মৎস্য অর্থনীতিতে। ট্রলার মালিক, জেলে, আড়তদার, মাছ পরিবহনকারী ও শ্রমিক—সবাই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতির মুখে পড়েন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।