সিরাতে নববী জীবনের পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশনা : শায়খ সুদাইসি
ধর্ম ডেস্ক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
সংগৃহীত ছবি
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
সিরাতে নববী জীবনের পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশনা : শায়খ সুদাইসি.
শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইস. মুসলিমদের গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করার আহ্বান জানিয়েছেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস। তিনি বলেছেন, তাকওয়াই মানুষের জন্য সর্বোত্তম পাথেয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।শুক্রবার মসজিদুল হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবায় শায়খ সুদাইস মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রায় চৌদ্দ শতাব্দী ধরে নবীদের নেতা মহানবী (সা.)-এর মহান মিশনের আলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তকে আলোকিত করে আসছে। তাঁর জীবন ছিল সৌন্দর্য, মর্যাদা, প্রজ্ঞা ও বিস্ময়কর শিক্ষায় পরিপূর্ণ।তিনি বলেন, সিরাতে নববী শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; এটি সভ্যতার উৎস, একটি জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি এবং বাস্তব জীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশনা।জাতি ও সমাজকে নেতৃত্ব, মর্যাদা, সফলতা ও ন্যায়পরায়ণতার পথে এগিয়ে নিতে নবুয়তি জীবনীর শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।শায়খ সুদাইস আরও বলেন, নবুয়তি জীবন ও সুন্নাহ মুসলিম উম্মাহর গৌরব, বিজয়, উন্নতি ও ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই শুধু বিশেষ কোনো সময় বা উপলক্ষে নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে ধারণ করতে হবে। তাঁর জীবনীর শিক্ষা ও উদ্দেশ্যগুলো নতুন প্রজন্মের মধ্যে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি সময়ের পরিবর্তনের মধ্যেও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে।তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নবুয়তি চরিত্র-গুণাবলি ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, এসব গুণ মানুষের জন্য আলোর দিশা এবং সঠিক পথে চলার নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা।তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাদের হৃদয়ে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর আদর্শ অনুসরণের আগ্রহ এবং হেদায়েতের প্রতি গভীর অনুরাগ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমসহ নির্ভরযোগ্য হাদিসগ্রন্থের মর্যাদা বোঝাতে হবে। সম্মান করতে হবে ইসলামের বিশিষ্ট ইমাম, আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামদেরও।খুতবায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও তার প্রভাবের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। শায়খ সুদাইস বলেন, কনটেন্ট নির্মাতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের দায়িত্ব হলো সহিহ সুন্নাহ, এর বিধান, উদ্দেশ্য, শিক্ষামূলক মূল্যবোধ ও সঠিক আকিদা মানুষের সামনে তুলে ধরা। তাই মহানবী (সা.)-এর জীবনীর ঘটনাবলিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে তাওহিদ ও ঈমানের চেতনা জাগিয়ে তুলতে হবে।কেননা মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর সম্পর্ক ও ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট দিন, সময়, অনুষ্ঠান কিংবা বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণীয় এক গভীর সম্পর্ক।তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার প্রমাণ হলো তাঁর আদর্শ অনুসরণ, সুন্নাহকে জীবনে বাস্তবায়ন এবং তাঁর নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবন পরিচালনা করা। একই সঙ্গে দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত প্রথা ও অনুশীলন থেকে দূরে থাকার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।শায়খ সুদাইসের খুতবার মূল বার্তা ছিল—মহানবী (সা.)-এর জীবনকে শুধু পড়া বা স্মরণ করা নয়, বরং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ রাষ্ট্রিয় জীবনে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত ভালোবাসার পরিচয়।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
মুসলিমদের গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করার আহ্বান জানিয়েছেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস। তিনি বলেছেন, তাকওয়াই মানুষের জন্য সর্বোত্তম পাথেয় এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।
শুক্রবার মসজিদুল হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবায় শায়খ সুদাইস মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রায় চৌদ্দ শতাব্দী ধরে নবীদের নেতা মহানবী (সা.)-এর মহান মিশনের আলো পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তকে আলোকিত করে আসছে। তাঁর জীবন ছিল সৌন্দর্য, মর্যাদা, প্রজ্ঞা ও বিস্ময়কর শিক্ষায় পরিপূর্ণ।
তিনি বলেন, সিরাতে নববী শুধু ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; এটি সভ্যতার উৎস, একটি জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি এবং বাস্তব জীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশনা।
জাতি ও সমাজকে নেতৃত্ব, মর্যাদা, সফলতা ও ন্যায়পরায়ণতার পথে এগিয়ে নিতে নবুয়তি জীবনীর শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শায়খ সুদাইস আরও বলেন, নবুয়তি জীবন ও সুন্নাহ মুসলিম উম্মাহর গৌরব, বিজয়, উন্নতি ও ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই শুধু বিশেষ কোনো সময় বা উপলক্ষে নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে ধারণ করতে হবে। তাঁর জীবনীর শিক্ষা ও উদ্দেশ্যগুলো নতুন প্রজন্মের মধ্যে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি সময়ের পরিবর্তনের মধ্যেও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে।
তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নবুয়তি চরিত্র-গুণাবলি ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, এসব গুণ মানুষের জন্য আলোর দিশা এবং সঠিক পথে চলার নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা।
তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাদের হৃদয়ে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর আদর্শ অনুসরণের আগ্রহ এবং হেদায়েতের প্রতি গভীর অনুরাগ সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমসহ নির্ভরযোগ্য হাদিসগ্রন্থের মর্যাদা বোঝাতে হবে। সম্মান করতে হবে ইসলামের বিশিষ্ট ইমাম, আহলে বাইত ও সাহাবায়ে কেরামদেরও।
খুতবায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার ও তার প্রভাবের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। শায়খ সুদাইস বলেন, কনটেন্ট নির্মাতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের দায়িত্ব হলো সহিহ সুন্নাহ, এর বিধান, উদ্দেশ্য, শিক্ষামূলক মূল্যবোধ ও সঠিক আকিদা মানুষের সামনে তুলে ধরা। তাই মহানবী (সা.)-এর জীবনীর ঘটনাবলিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে তাওহিদ ও ঈমানের চেতনা জাগিয়ে তুলতে হবে।
কেননা মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর সম্পর্ক ও ভালোবাসা কোনো নির্দিষ্ট দিন, সময়, অনুষ্ঠান কিংবা বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণীয় এক গভীর সম্পর্ক।
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার প্রমাণ হলো তাঁর আদর্শ অনুসরণ, সুন্নাহকে জীবনে বাস্তবায়ন এবং তাঁর নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবন পরিচালনা করা। একই সঙ্গে দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত প্রথা ও অনুশীলন থেকে দূরে থাকার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শায়খ সুদাইসের খুতবার মূল বার্তা ছিল—মহানবী (সা.)-এর জীবনকে শুধু পড়া বা স্মরণ করা নয়, বরং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ রাষ্ট্রিয় জীবনে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত ভালোবাসার পরিচয়।