অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী
মুফতি ওমর বিন নাছির
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
সংগৃহীত ছবি
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী.
মুফতি ওমর বিন নাছির. বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। এর মাধ্যমে মৃত জমিন জীবন্ত হয়ে ওঠে, ফসল ফলে, নদী-নালা পূর্ণ হয় এবং মানুষ ও প্রাণীকুলের জীবনধারণ সহজ হয়।তাই কোরআনে বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমতের নিদর্শন বলা হয়েছে। কিন্তু ইসলাম একই সঙ্গে শিক্ষা দেয়, সব বৃষ্টি এক ধরনের নয়। কখনো বৃষ্টি রহমত, কখনো পরীক্ষা, আবার কখনো শাস্তি বা কিয়ামতের নিকটবর্তী হওয়ার একটি নিদর্শনও হতে পারে।রাসুলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের পূর্বে পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া বহু ঘটনার সংবাদ দিয়েছেন।এসব ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে একটি হলো—এমন এক সময় আসবে, যখন অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হবে; কিন্তু সেই বৃষ্টি মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং ঘরবাড়ি ধ্বংস করবে এবং জমিনে প্রত্যাশিত ফসলও উৎপন্ন হবে না। বর্তমান বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাগুলো আমাদের এসব হাদিস স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনিই আকাশ থেকে পরিমিত পরিমাণে পানি বর্ষণ করেন।অতঃপর আমি এর মাধ্যমে মৃত জনপদকে জীবিত করি। এভাবেই তোমাদেরও পুনরুত্থিত করা হবে।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ১১)১. কিয়ামতের আগে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হবে : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُمْطَرَ النَّاسُ مَطَرًا لَا تُكِنُّ مِنْهُ بُيُوتُ الْمَدَرِ وَلَا تُكِنُّ مِنْهُ إِلَّا بُيُوتُ الشَّعَرِঅর্থ : ‘কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না মানুষের ওপর এমন বৃষ্টিপাত হবে, যাতে মাটির তৈরি ঘরগুলো টিকে থাকতে পারবে না; কেবল পশমের (তাঁবুর) ঘরগুলো রক্ষা পাবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১২৪২৯)এই হাদিসে এমন অস্বাভাবিক ও দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, যা মানুষের স্থায়ী বসতবাড়ির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে।২. প্রচুর বৃষ্টি হবে, কিন্তু ফসল উৎপন্ন হবে না : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يُمْطَرَ النَّاسُ مَطَرًا عَامًّا وَلَا تَنْبُتَ الْأَرْضُ شَيْئًاঅর্থ : ‘কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না সর্বত্র ব্যাপক বৃষ্টিপাত হবে; কিন্তু জমিন কোনো ফসল উৎপন্ন করবে না।’ (মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং : ৭৪১১)স্বাভাবিকভাবে বৃষ্টি ফসলের কারণ। কিন্তু কিয়ামতের পূর্বে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, যখন বৃষ্টি হলেও জমিন তার স্বাভাবিক উৎপাদনশীলতা হারাবে। এটি আল্লাহর নির্ধারিত প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় এক ব্যতিক্রমী পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।৩. বৃষ্টি আল্লাহর রহমত, তবে তা পরীক্ষা ও সতর্কবার্তাও হতে পারে : কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্থলে ও সাগরে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে মানুষের কৃতকর্মের কারণে, যাতে আল্লাহ তাদের কিছু কর্মের স্বাদ আস্বাদন করান, যেন তারা ফিরে আসে।’ (সুরা : রূম, আয়াত : ৪১)এই আমাদের শিখায়, পৃথিবীর বিভিন্ন বিপর্যয় মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানায়।অতএব, বৃষ্টি মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য নিয়ামত। কিন্তু মহানবী (সা.) আমাদের জানিয়েছেন, কিয়ামতের পূর্বে এমন এক সময় আসবে, যখন অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত মানুষের জন্য কল্যাণের পরিবর্তে দুর্ভোগের কারণ হবে। অতিবৃষ্টি ঘরবাড়ি ধ্বংস করবে, অথচ সেই বৃষ্টিতেও জমিন প্রত্যাশিত ফসল দেবে না। এসব ভবিষ্যদ্বাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—এই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়; একদিন সবকিছু বদলে যাবে।তাই একজন মুমিনের কর্তব্য হলো আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, বিপদে ধৈর্যধারণ করা, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং কিয়ামতের প্রস্তুতি হিসেবে ঈমান, ইবাদত ও সৎকর্মে নিজেকে সমৃদ্ধ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর নিদর্শন থেকে শিক্ষাগ্রহণ করার, রহমতের বৃষ্টির জন্য কৃতজ্ঞ থাকার এবং সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে তাঁর আশ্রয় প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। এর মাধ্যমে মৃত জমিন জীবন্ত হয়ে ওঠে, ফসল ফলে, নদী-নালা পূর্ণ হয় এবং মানুষ ও প্রাণীকুলের জীবনধারণ সহজ হয়।
তাই কোরআনে বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমতের নিদর্শন বলা হয়েছে। কিন্তু ইসলাম একই সঙ্গে শিক্ষা দেয়, সব বৃষ্টি এক ধরনের নয়। কখনো বৃষ্টি রহমত, কখনো পরীক্ষা, আবার কখনো শাস্তি বা কিয়ামতের নিকটবর্তী হওয়ার একটি নিদর্শনও হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের পূর্বে পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া বহু ঘটনার সংবাদ দিয়েছেন।
এসব ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে একটি হলো—এমন এক সময় আসবে, যখন অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হবে; কিন্তু সেই বৃষ্টি মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং ঘরবাড়ি ধ্বংস করবে এবং জমিনে প্রত্যাশিত ফসলও উৎপন্ন হবে না। বর্তমান বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাগুলো আমাদের এসব হাদিস স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনিই আকাশ থেকে পরিমিত পরিমাণে পানি বর্ষণ করেন।
অতঃপর আমি এর মাধ্যমে মৃত জনপদকে জীবিত করি। এভাবেই তোমাদেরও পুনরুত্থিত করা হবে।’ (সুরা : জুখরুফ, আয়াত : ১১)
১. কিয়ামতের আগে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হবে : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
অর্থ : ‘কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না মানুষের ওপর এমন বৃষ্টিপাত হবে, যাতে মাটির তৈরি ঘরগুলো টিকে থাকতে পারবে না; কেবল পশমের (তাঁবুর) ঘরগুলো রক্ষা পাবে।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং : ১২৪২৯)
এই হাদিসে এমন অস্বাভাবিক ও দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, যা মানুষের স্থায়ী বসতবাড়ির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে।
২. প্রচুর বৃষ্টি হবে, কিন্তু ফসল উৎপন্ন হবে না : রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
অর্থ : ‘কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না সর্বত্র ব্যাপক বৃষ্টিপাত হবে; কিন্তু জমিন কোনো ফসল উৎপন্ন করবে না।
’ (মুসনাদে বাজ্জার, হাদিস নং : ৭৪১১)
স্বাভাবিকভাবে বৃষ্টি ফসলের কারণ। কিন্তু কিয়ামতের পূর্বে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, যখন বৃষ্টি হলেও জমিন তার স্বাভাবিক উৎপাদনশীলতা হারাবে। এটি আল্লাহর নির্ধারিত প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় এক ব্যতিক্রমী পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
৩. বৃষ্টি আল্লাহর রহমত, তবে তা পরীক্ষা ও সতর্কবার্তাও হতে পারে : কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্থলে ও সাগরে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে মানুষের কৃতকর্মের কারণে, যাতে আল্লাহ তাদের কিছু কর্মের স্বাদ আস্বাদন করান, যেন তারা ফিরে আসে।’ (সুরা : রূম, আয়াত : ৪১)
এই আমাদের শিখায়, পৃথিবীর বিভিন্ন বিপর্যয় মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানায়।
অতএব, বৃষ্টি মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য নিয়ামত। কিন্তু মহানবী (সা.) আমাদের জানিয়েছেন, কিয়ামতের পূর্বে এমন এক সময় আসবে, যখন অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত মানুষের জন্য কল্যাণের পরিবর্তে দুর্ভোগের কারণ হবে। অতিবৃষ্টি ঘরবাড়ি ধ্বংস করবে, অথচ সেই বৃষ্টিতেও জমিন প্রত্যাশিত ফসল দেবে না। এসব ভবিষ্যদ্বাণী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—এই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়; একদিন সবকিছু বদলে যাবে।
তাই একজন মুমিনের কর্তব্য হলো আল্লাহর নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, বিপদে ধৈর্যধারণ করা, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং কিয়ামতের প্রস্তুতি হিসেবে ঈমান, ইবাদত ও সৎকর্মে নিজেকে সমৃদ্ধ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর নিদর্শন থেকে শিক্ষাগ্রহণ করার, রহমতের বৃষ্টির জন্য কৃতজ্ঞ থাকার এবং সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে তাঁর আশ্রয় প্রার্থনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।