অবৈধ ২৫০ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
ঢাকা প্রোব ডেস্ক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
সংগৃহীত ছবি
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
অবৈধ ২৫০ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর.
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসে সারা দেশে অভিযান চালিয়ে ২৫০টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ২৯ মার্চ থেকে নিয়মিত এ অভিযান শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিভিন্ন অভিযানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টির বেশি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম সংশোধনের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।তিনি জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদেরও নবায়নের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ছয় হাজার ক্লিনিক লাইসেন্স নবায়ন করেছে। আরও দুই থেকে তিন হাজার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এসব আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে সারা দেশে ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে পরিচালিত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ২৫২, চট্টগ্রামে ২৪০, রংপুরে ১১১, খুলনায় ১৫৬, রাজশাহীতে ৫৫, বরিশালে ৪৮ এবং সিলেটে আটটি অবৈধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে রাজধানীতেও প্রায় ২৫টি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে, কোনোটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া ফরিদপুরে চারটি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টাঙ্গাইলে ছয়টি অনুমোদনহীন ক্লিনিক, শরীয়তপুরে দুটি ক্লিনিক, নরসিংদীতে দুটি, পাবনায় দুটি ক্লিনিক এবং মানিকগঞ্জে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। একইভাবে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে একটি ও রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে একটি ক্লিনিকসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দুই শতাধিক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়েও কোনো আপস করা হবে না।তিনি বলেন, রাজধানী থেকে শুরু হওয়া অভিযান ধাপে ধাপে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিস্তৃত করা হয়েছে। অবৈধভাবে হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সারা দেশে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর অনিয়ম দূর করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স যাচাই, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদ যাচাই করা হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক জরিমানা, সিলগালা কিংবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুয়া চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ মাসে সারা দেশে অভিযান চালিয়ে ২৫০টির বেশি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা বাড়ানো এবং নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত ২৯ মার্চ থেকে নিয়মিত এ অভিযান শুরু করে স্বাস্থ্য বিভাগ। বিভিন্ন অভিযানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ ও মানহীন হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টির বেশি অবৈধ ক্লিনিক বন্ধ করা হয়েছে। প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম সংশোধনের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদেরও নবায়নের জন্য সময় দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ছয় হাজার ক্লিনিক লাইসেন্স নবায়ন করেছে। আরও দুই থেকে তিন হাজার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে এসব আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে সারা দেশে ১ হাজার ২৮৫টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবৈধভাবে পরিচালিত হওয়ার তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪১৫টি প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া ময়মনসিংহে ২৫২, চট্টগ্রামে ২৪০, রংপুরে ১১১, খুলনায় ১৫৬, রাজশাহীতে ৫৫, বরিশালে ৪৮ এবং সিলেটে আটটি অবৈধ প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত কয়েক মাসে রাজধানীতেও প্রায় ২৫টি অবৈধ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। পরিদর্শনের সময় এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে, কোনোটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ফরিদপুরে চারটি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার, টাঙ্গাইলে ছয়টি অনুমোদনহীন ক্লিনিক, শরীয়তপুরে দুটি ক্লিনিক, নরসিংদীতে দুটি, পাবনায় দুটি ক্লিনিক এবং মানিকগঞ্জে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়েছে। একইভাবে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডে একটি ও রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে একটি ক্লিনিকসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় দুই শতাধিক অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ক্লিনিক ও ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়েও কোনো আপস করা হবে না।
তিনি বলেন, রাজধানী থেকে শুরু হওয়া অভিযান ধাপে ধাপে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিস্তৃত করা হয়েছে। অবৈধভাবে হাসপাতাল বা ক্লিনিক পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, সারা দেশে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর অনিয়ম দূর করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স যাচাই, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান পরীক্ষা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ এবং চিকিৎসকদের বৈধ সনদ যাচাই করা হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক জরিমানা, সিলগালা কিংবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুয়া চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।