জ্বালানি সংকট ১৭ বছরের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: তিতুমীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৭ PM
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
জ্বালানি সংকট ১৭ বছরের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: তিতুমীর.
দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট গত ১৭ বছরের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।তিনি বলেন, অতীতে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণে দেশে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এখন সরকার জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের গ্রাহকদের উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আওতাধীন ফাউন্ডেশনগুলোর ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন ফাউন্ডেশনগুলো পাঁচটি ক্লাস্টারে কাজ করবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব ফাউন্ডেশন ভূমিকা রাখবে।তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দর্শন ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিতুমীর বলেন, ‘বাংলাদেশকে যদি সবার আগে রাখতে হয়, তাহলে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন’। আজকের বৈঠককে নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, আমাদের জানা মতে, বাংলাদেশে এর আগে এমন কিছু হয়নি।’অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও সমৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন-এই তিন ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল অনুমোদন দিয়েছেন। এরই মধ্যে ১৮০ দিনের মধ্যে পরিবর্তনের বিভিন্ন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।বৈঠকে নেওয়া প্রথম সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন কাজ করবে।দ্বিতীয় বিষয়টি বিদ্যুৎ খাত নিয়ে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মানুষ বিদ্যুতের ভোক্তা। এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে তাদের বিদ্যুতের ভোক্তা থেকে উৎপাদকে পরিণত করা যায়।তৃতীয় বিষয় হিসেবে স্বাস্থ্য খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বলার মতো কোনো স্বাস্থ্যব্যবস্থা নেই। এটি ভেঙে পড়েছে।’ তবে এ খাতে বাজেটে বড় ধরনের বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।ড. তিতুমীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার জন্য হাসপাতালগুলো ২০ শয্যার করা হয়। পরে, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে তা বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর আর হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো হয়নি। বর্তমান সরকার এখন উপজেলা পর্যায়ে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।চতুর্থ বিষয় হিসেবে তিনি সারা জীবনের জন্য সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। এর আওতায় প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে অধিকারভোগী হিসেবে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে।ড. তিতুমীর বলেন, এ কর্মসূচির বিকল্প অর্থায়নের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে জাকাত বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’ কীভাবে জাকাতের অর্থ এই কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
দেশের বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট গত ১৭ বছরের সরকারের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলেন, অতীতে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণে দেশে বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে। এখন সরকার জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের গ্রাহকদের উৎপাদক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর আওতাধীন ফাউন্ডেশনগুলোর ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘ফাইভ ইয়ার স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, সরকারের সংস্কার ও উন্নয়নের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন ফাউন্ডেশনগুলো পাঁচটি ক্লাস্টারে কাজ করবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব ফাউন্ডেশন ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দর্শন ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিতুমীর বলেন, ‘বাংলাদেশকে যদি সবার আগে রাখতে হয়, তাহলে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন’।
আজকের বৈঠককে নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, আমাদের জানা মতে, বাংলাদেশে এর আগে এমন কিছু হয়নি।’
অধ্যাপক তিতুমীর বলেন, সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও সমৃদ্ধির জন্য পুনর্গঠন-এই তিন ধাপে পাঁচ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশল অনুমোদন দিয়েছেন। এরই মধ্যে ১৮০ দিনের মধ্যে পরিবর্তনের বিভিন্ন মাইলফলক অর্জিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে নেওয়া প্রথম সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফাউন্ডেশন কাজ করবে।
দ্বিতীয় বিষয়টি বিদ্যুৎ খাত নিয়ে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মানুষ বিদ্যুতের ভোক্তা। এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে তাদের বিদ্যুতের ভোক্তা থেকে উৎপাদকে পরিণত করা যায়।
তৃতীয় বিষয় হিসেবে স্বাস্থ্য খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বলার মতো কোনো স্বাস্থ্যব্যবস্থা নেই। এটি ভেঙে পড়েছে।’ তবে এ খাতে বাজেটে বড় ধরনের বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ড. তিতুমীর বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার জন্য হাসপাতালগুলো ২০ শয্যার করা হয়। পরে, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে তা বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এরপর আর হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো হয়নি। বর্তমান সরকার এখন উপজেলা পর্যায়ে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
চতুর্থ বিষয় হিসেবে তিনি সারা জীবনের জন্য সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। এর আওতায় প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে অধিকারভোগী হিসেবে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে।
ড. তিতুমীর বলেন, এ কর্মসূচির বিকল্প অর্থায়নের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে জাকাত বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’
কীভাবে জাকাতের অর্থ এই কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।