রবিবারবাংলা: ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দইংরেজি: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দহিজরি: ৩০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

‘২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীত’ স্লোগান নয়, পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

‘২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীত’ স্লোগান নয়, পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী
সংবাদটি শুনুন AI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এটি কোনো স্লোগান নয়, রপ্তানি-বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে এই দশকে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পূর্বাঞ্চলীয় শোধনাগার লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং বাংলাদেশের একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। এটি কোনো স্লোগান নয়। এটি একটি পরিকল্পনা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে এই দশকে অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র ও এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করা। পোশাক খাত দেশের প্রথম প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্পের মাধ্যমে পরবর্তী প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চায় সরকার।

‘আমরা এমন কারখানা চাই, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। আর এমন কর্মসংস্থান চাই, যা মর্যাদা তৈরি করবে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কথা বলেন। হেল্থ কার্ডের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, এসব পরিস্থিতিতে অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ ও ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইএসডিবি) সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতির আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, দ্রুত সাড়াদানকারী ও ফলাফলভিত্তিক হতে হবে। একই সঙ্গে তা বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া দরকার।

বাংলাদেশ এখন আইএসডিবি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ইআরএল প্রকল্পে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়ন

ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ও আইএসডিবির মধ্যে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি হয়েছে। অর্থাৎ অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ০০৪ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবির পক্ষে কান্ট্রি প্রোগ্রামসের মহাপরিচালক আনাসে আইসামি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিপিসির বর্তমান পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টন হবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

এ ছাড়া ইউরো-৫ মানের পরিবেশবান্ধব পেট্রোলিয়াম তেল উৎপাদন করা সম্ভব হবে। কমবে আমদানি করা পরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প শুধু জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নয়। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সক্ষমতায় বিনিয়োগ।

আইএসডিবির সঙ্গে আরও সহযোগিতা

আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় ড. মুহাম্মদ আল জাসেরকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। গত পাঁচ বছরে তাঁর নেতৃত্বে সদস্যদেশ ও মুসলিম উম্মাহর জন্য ব্যাংকটি উল্লেখযোগ্য ফলাফল অর্জন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে আরও বড় সাফল্য আসবে বলে বাংলাদেশ আশা করে। তাঁর সরকার আইএসডিবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়।

ইসলামিক কনসেশনাল ফান্ড (আইসিএফ) প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নশীল সদস্যদেশগুলোর জন্য কম খরচে অর্থায়নের সুযোগ হিসেবে এই তহবিলকে আরও সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় আইএসডিবির আঞ্চলিক হাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রকল্প চিহ্নিত করতে কাজ করছেন।

আইএসডিবি সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, কোনো সদস্যরাষ্ট্র জ্বালানি খাতে এগিয়ে, আবার কোনোটি অবকাঠামোয়। ব্যাংকটি এসব দেশের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশ সফর ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকার জন্য ড. আল জাসেরকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোতে সহায়তা করার বিষয়ে তাঁর গভীর অঙ্গীকারের কথা জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ইস্যুতে সমঝোতা, মানতে হবে যে শর্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট ইস্যুতে সমঝোতা, মানতে হবে যে শর্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বিএনপির ঝাড়ু মিছিল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, উপকৃত ৮৬১ রোগী

খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, উপকৃত ৮৬১ রোগী

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা প্রোব এআই সহকারী

প্রস্তুত আছেন
নমস্কার / আসসালামু আলাইকুম! আমি ঢাকা প্রোব এআই সহকারী। আজকের যেকোনো খবর জানতে মুখে বলুন বা লিখুন।