হাদি হত্যা: অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ১৯ বারের মতো পেছাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
সংগৃহীত ছবি
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
হাদি হত্যা: অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন ১৯ বারের মতো পেছাল.
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে ১৯ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হলো। নতুন করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।মামলাটিতে ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন।যেভাবে হামলার শিকার হন হাদিজুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা শরীফ ওসমান হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী গণসংযোগের জন্য রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে হামলার শিকার হন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে একটি চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা এক ব্যক্তি গুলি করেন।গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ওই রাতেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে হত্যা মামলাহাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে তার মৃত্যু হলে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটির তদন্ত করলেও পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবিকে।তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে ৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ডিবি।অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।এ ছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করেছিলেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।অভিযোগপত্রে ১৭ আসামিডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে আসামিরা হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭), হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)।তাদের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদসহ পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।এদিকে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বারবার পেছানোয় মামলাটির তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে সিআইডির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা রয়েছে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে ১৯ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হলো। নতুন করে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
মামলাটিতে ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন।
যেভাবে হামলার শিকার হন হাদি
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা শরীফ ওসমান হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী গণসংযোগের জন্য রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গেলে হামলার শিকার হন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে একটি চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা এক ব্যক্তি গুলি করেন।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর ওই রাতেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে।
হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে হত্যা মামলা
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে তার মৃত্যু হলে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটির তদন্ত করলেও পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবিকে।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে ৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় ডিবি।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ ছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারে অনুপ্রবেশ করেছিলেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে ১৭ আসামি
ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে আসামিরা হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১), মো. কবির (৩৩), মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল (৩৪), ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা সিবিয়ন দিউ (৩২), সঞ্জয় চিসিম (২৩), মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু (৩৭), হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল (২৫), মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ (২৬), সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, ভারতে পালাতে সহায়তার অভিযোগ থাকা ফিলিপ স্নাল (৩২), মুক্তি মাহমুদ (৫১) ও জেসমিন আক্তার (৪২)।
তাদের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদসহ পাঁচজন পলাতক রয়েছেন।
এদিকে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বারবার পেছানোয় মামলাটির তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে অপেক্ষা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে সিআইডির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা রয়েছে।