অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘ঠিকভাবে চলুন’। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন সংঘর্ষে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। এ কারণে ইরানি সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন অবরোধ অমান্য করার চেষ্টা করা একটি জাহাজেও হামলার কথা জানিয়েছে তারা।
এর আগে ইরান দাবি করে, তারা বাহরাইন, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক সমঝোতা থাকলেও টানা পঞ্চম দিনের মতো সংঘর্ষ চলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, যুদ্ধবিরতি থেকে বাস্তব কোনো লাভ না হলে তা মেনে চলার ‘কোনো কারণ’ নেই। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনা চালিয়ে যাওয়াও ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের অংশ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত ইরানের জন্য ‘অস্তিত্বের লড়াই’।
এর আগে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরান আলোচনায় না ফিরলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হতে পারে।
বুধবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি সময়সীমা দিতে পছন্দ করি না। তবে তারা পুরো বিষয়টি জানে। তাদের ঠিকভাবে চলতে হবে।’ পরে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরান এখন কঠিন চাপে রয়েছে এবং সমঝোতায় আগ্রহী।
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা খুবই মরিয়া হয়ে সমঝোতা করতে চায়। আমরা দেখব তাদের সঙ্গে সমঝোতা হবে, নাকি এখানেই বিষয়টির শেষ হবে।’
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ৯০ মিনিটের অভিযানে গ্রেটার তুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পরে দ্বিতীয় দফার হামলায় কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনা কেন্দ্র এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু ছিল। গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সেন্টকম আরও জানায়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপের পর দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে বলে তাদের দাবি।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট তেল ও গ্যাস পরিবহনের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।