আগেভাগেই মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ, জোরদার হবে বাজার মনিটরিং
নিজস্ব প্রতিনিধি
রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ PM
সংগৃহীত ছবি
সংবাদটি শুনুনAI Voice
প্লে করতে বাটনে চাপুন
রমজানে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে আগাম প্রস্তুতি.
আগেভাগেই মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ, জোরদার হবে বাজার মনিটরিং. আগামী রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম স্থিতিশীল রাখতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজান মাসে নিত্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। এ সুযোগে প্রতিবছর একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। এতে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে রোজাদাররা।এবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রমজানের কয়েক মাস আগেই প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাজার মনিটরিং জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রমজানজুড়ে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির ওপর সর্বোচ্চ নজরদারি থাকবে।১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা, ৩ হাজার ৩০০ টন খেজুর কিনবে টিসিবিরমজান উপলক্ষে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা এবং ৩ হাজার ৩০০ টন খেজুর আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।জানা গেছে, আগামী রমজানে নিম্নআয়ের প্রায় এক কোটি পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। বর্তমানে টিসিবির ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৮টি কার্ড সক্রিয় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে রমজান মাসে সক্রিয় কার্ডের সংখ্যা ৮৫ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।এসব কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে এক কেজি করে ছোলা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য ১৩ লাখ সক্রিয় কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে এক কেজি করে খেজুর বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় আরও ৪০ লাখ উপকারভোগীর কাছে ট্রাক সেলের মাধ্যমে এক কেজি করে ছোলা ও আধা কেজি করে খেজুর বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।রমজানে বাড়ে নিত্যপণ্যের চাহিদাসংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রয়োজন হয় প্রায় ৩ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় প্রায় ৫ লাখ টন।মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭ লাখ টন। রমজানে এর প্রয়োজন হয় প্রায় ৮০ হাজার টন। স্থানীয় উৎপাদন প্রায় দেড় লাখ টন। চিনির বার্ষিক চাহিদা ২০ থেকে ২১ লাখ টন এবং রমজানে প্রয়োজন হয় প্রায় ৩ লাখ টন।ছোলার বার্ষিক চাহিদা সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ টন, যার বড় একটি অংশ রমজান মাসেই প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে দেশে খেজুরের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন। রমজান মাসে এর চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টনে।কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কঠোর নজরদারির দাবিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর রমজানের আগে বাজারে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ ওঠে। দেশে পর্যাপ্ত পণ্য মজুত থাকার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে রমজান ঘনিয়ে এলে দাম বাড়তে শুরু করে। পরে বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।তাদের মতে, এবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও খুচরা বাজার—প্রতিটি পর্যায়ে সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম শনাক্ত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বড় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মজুত পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এনডিসি বলেন, রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যে দেশে কোনো ধরনের সরবরাহ সংকট যাতে না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মানুষের স্বস্তিতে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকার আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, কোনো সংকট হবে না।তথ্যভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনার তাগিদকনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও সরকার রমজানে নিত্যপণ্যের সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করতে পারে। তবে সেই আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।তিনি বলেন, সরকারের প্রস্তুতি যদি আগের প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখালেও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা আমদানিকারকদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন না করে সক্রিয়ভাবে বাজার তদারক করতে হবে।এস এম নাজের হোসাইন আরও বলেন, আমদানি ও চাহিদার বিষয়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। আমদানি করা ও মজুত করা পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি, মজুত ও বিতরণের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে চাহিদা-জোগানের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের আগাম প্রস্তুতি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু পণ্য আমদানি ও মজুত বাড়ালেই বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়াই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। আগাম প্রস্তুতির সুফল শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছালেই সরকারের এই উদ্যোগ সফল হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন
অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
আগামী রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক ও দাম স্থিতিশীল রাখতে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রমজান মাসে নিত্যপণ্যের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। এ সুযোগে প্রতিবছর একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। এতে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে রোজাদাররা।
এবার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রমজানের কয়েক মাস আগেই প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাজার মনিটরিং জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, রমজানজুড়ে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতির ওপর সর্বোচ্চ নজরদারি থাকবে।
১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা, ৩ হাজার ৩০০ টন খেজুর কিনবে টিসিবি
রমজান উপলক্ষে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ১২ হাজার ৫০০ টন ছোলা এবং ৩ হাজার ৩০০ টন খেজুর আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ।
জানা গেছে, আগামী রমজানে নিম্নআয়ের প্রায় এক কোটি পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে টিসিবির। বর্তমানে টিসিবির ৭২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪৮টি কার্ড সক্রিয় রয়েছে। পর্যায়ক্রমে রমজান মাসে সক্রিয় কার্ডের সংখ্যা ৮৫ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে এক কেজি করে ছোলা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য ১৩ লাখ সক্রিয় কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে এক কেজি করে খেজুর বিক্রি করা হবে। এ ছাড়া বাণিজ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় আরও ৪০ লাখ উপকারভোগীর কাছে ট্রাক সেলের মাধ্যমে এক কেজি করে ছোলা ও আধা কেজি করে খেজুর বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রমজানে বাড়ে নিত্যপণ্যের চাহিদা
সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রয়োজন হয় প্রায় ৩ লাখ টন। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হয় প্রায় ৫ লাখ টন।
মসুর ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৭ লাখ টন। রমজানে এর প্রয়োজন হয় প্রায় ৮০ হাজার টন। স্থানীয় উৎপাদন প্রায় দেড় লাখ টন। চিনির বার্ষিক চাহিদা ২০ থেকে ২১ লাখ টন এবং রমজানে প্রয়োজন হয় প্রায় ৩ লাখ টন।
ছোলার বার্ষিক চাহিদা সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ টন, যার বড় একটি অংশ রমজান মাসেই প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে দেশে খেজুরের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টন। রমজান মাসে এর চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টনে।
কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে কঠোর নজরদারির দাবি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর রমজানের আগে বাজারে নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ ওঠে। দেশে পর্যাপ্ত পণ্য মজুত থাকার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে রমজান ঘনিয়ে এলে দাম বাড়তে শুরু করে। পরে বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করা হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তাদের মতে, এবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও খুচরা বাজার—প্রতিটি পর্যায়ে সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম শনাক্ত হলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বড় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের মজুত পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এনডিসি বলেন, রমজানের প্রয়োজনীয় পণ্যে দেশে কোনো ধরনের সরবরাহ সংকট যাতে না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মানুষের স্বস্তিতে রোজা পালন ও ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকার আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, কোনো সংকট হবে না।
তথ্যভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনার তাগিদ
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও সরকার রমজানে নিত্যপণ্যের সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করতে পারে। তবে সেই আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সরকারের প্রস্তুতি যদি আগের প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখালেও বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা আমদানিকারকদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন না করে সক্রিয়ভাবে বাজার তদারক করতে হবে।
এস এম নাজের হোসাইন আরও বলেন, আমদানি ও চাহিদার বিষয়ে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। আমদানি করা ও মজুত করা পণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি, মজুত ও বিতরণের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে চাহিদা-জোগানের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের আগাম প্রস্তুতি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধু পণ্য আমদানি ও মজুত বাড়ালেই বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়াই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। আগাম প্রস্তুতির সুফল শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছালেই সরকারের এই উদ্যোগ সফল হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।