অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন
রাজধানী ঢাকায় গত কয়েক দিন ধরেই চলছে থেমে থেমে বৃষ্টি। তবে আজ ভোর থেকে শুরু হওয়া বিরামহীন বর্ষণে অচল হয়ে পড়েছে শহরের বিভিন্ন সড়ক। অলিগলিতেও সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলজট। ফলে ঘরের বাইরে বের হওয়া কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীর মিরপুর, কাফরুল, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ভাটারা, ছোলমাইদ, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকা, খিলগাঁও, মালিবাগ ও প্রগতি সরণির বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো সড়কে হাঁটু সমান পানি জমেছে।

জলজটের কারণে সড়কগুলোতে গণপরিবহনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত বাস বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাচ্ছেন না যাত্রীরা। আর এই সুযোগে রিকশা চালকেরা দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
নতুনবাজার এলাকা থেকে কারওয়ান বাজারে রওনা হওয়া সবজি ব্যবসায়ী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রতিদিনই সকালে কারওয়ান বাজার থেকে পাইকারি দরে সবজি কিনে মহল্লায় এনে ব্যবসা করি। আজ ভোর থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। অলিগলিতে পানি জমে গেছে। তবু কষ্ট করে বের হয়েছি। কিন্তু নতুন বাজার এসে দেখি রাস্তায় বাস কম। রিকশাওয়ালারা ২০০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা চাচ্ছে।

মিরপুর কাফরুলের বাসিন্দা কাজী মাইনুদ্দিন বলেন, বৃষ্টি হলেই জলজট সৃষ্টি হয়। ড্রেনের ময়লা পানি সড়কে উঠে যায়। গাড়ি কম চলে। যার কারণে স্বাভাবিক জীবন স্থবির হয়ে পড়ে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ববিউল থাকেন শেওড়াপাড়ায়। তিনি ঢাকাপ্রোবকে বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে যাওয়া বড় সমস্যা। ভার্সিটি যাবো বলে বের হয়েছি। সড়কে যে পরিমাণ পানি জমেছে তা দেখে বোঝার উপায় নেই যে এগুলো সড়ক নাকি কোনো খাল। মূল সড়ক থেকে একটু ভেতরে আমার বাসা। ওখান থেকে রিকশার ২০ টাকার ভাড়া আজ ৪০ টাকা দিয়ে এলাম। তাও রিকশা পাওয়া যাচ্ছে না।

নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপ বেরিয়ে পড়ে। সামান্য বৃষ্টিতেই যদি পুরো শহর অচল হয়ে যায়, তবে সিটি কর্পোরেশনের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল কোথায়?
এদিকে দেশের অধিকাংশ এলাকায় আজও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা বহাল রয়েছে।

এ ছাড়া দেশের ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, ভারতের মধ্য উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপ এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১১ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজার, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। গাণিতিক মডেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে এসব জেলায় মোট ১০০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আজ (১২ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে এসব এলাকার
নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে গতকাল রাতে দেওয়া আবহাওয়া অধিদপ্তরের সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।