বুধবার|বাংলা: ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ|ইংরেজি: ১৫ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ|আরবি: ২৯ মহররম ১৪৪৮ হিজরি
ঢাকা, বাংলাদেশ
--° সে.
মেনু

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করব: মাহ্দী আমিন

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করব: মাহ্দী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। ছবি সংগৃহীত
এই সংবাদের সংবাদপত্র সংস্করণ (PDF) ডাউনলোড করুন

অফলাইন পড়ার জন্য প্রিন্ট বা পিডিএফ কপি সংগ্রহে রাখুন

ডাউনলোড করুন
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিপর্যস্ত ও লুন্ঠিত শিক্ষাব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করব। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র একথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। 

সাতটি জেলা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে ছুটে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যে আবেগ,  উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসা এটিই প্রমাণ করে একজন জনগণের নেতা যখন রাষ্ট্র পরিচালনায় আসে, কীভাবে তিনি দেশের মানুষের ভাগ্যকে বদলে দিতে পারেন। আমরা ইনশাআল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর সেই রুপকল্প বাস্তবায়নের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এবং তাঁর হাতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশের বিপর্যস্ত, লুন্ঠিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তুলবো।সবাই মিলে বিনির্মাণ করব এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষার্থীরা হবে আগামী বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর, মূল অগ্রদূত।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিকূলতা, প্রতিবন্ধকতা ও বিরূপ প্রকৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে আমাদের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করবে, আগামীর বাংলাদেশের কাণ্ডারী তারাই। আর প্রধানমন্ত্রী যে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকল্প তুলে ধরেছেন, সেটি তাঁদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে।

মাহ্দী আমিন বলেন, আজ এখানে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রান্তিক পর্যায় থেকে এসেছে। এখানে যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ দেখলাম, সেগুলোতে আমাদের সেই শিক্ষার্থীরাই অংশগ্রহণ করেছে, যারা সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উঠে এসেছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে বন্যাকবলিত সাতটি জেলার শিক্ষার্থীরাও প্রবল বন্যা ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছোট্ট ছোট্ট শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ জেলার স্বাতন্ত্র্য, সাফল্য ও ঐতিহ্য ধারণ করে উপস্থিত হয়েছে। তাঁদের এই উপস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত অর্জনের স্বীকৃতিই নয়, প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য মানসিকতারও অনন্য প্রতিফলন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তিনি সুনির্দিষ্ট ও সুবিস্তৃত লক্ষ্য দেখিয়েছেন, যেটি আমরা নির্বাচনী পথযাত্রায় দেখেছি এবং নির্বাচনী ইশতেহারেও দেখেছি। তারই একটি প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আজ প্রায় ৬৫ হাজার স্কুলে একসঙ্গে প্রায় দুই লাখ বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। এই বৃক্ষরোপণেই কার্যক্রম শেষ হবে না। আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্কুলে এসব বৃক্ষের পরিচর্যা করবে। আমরা চাই এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ থাকবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং তাঁদের মূল্যবোধ ও নীতিবোধ গড়ে উঠবে। এর মাধ্যমে তাঁরা বাংলাদেশের পতাকাকে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বদরবারে আরও উঁচুতে তুলে ধরবে, ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আজকের শিক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের। আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামের সঙ্গে যে ‘গণশিক্ষা’ শব্দটি রয়েছে, সেই গণশিক্ষা শহীদ জিয়ার হাত ধরেই সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে গিয়েছিল। আজ যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব আমরা করছি, সেটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে শুরু হয়েছিল। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বারবার তৃণমূল ও প্রান্তিক এলাকায় ছুটে গেছেন এবং নিশ্চিত করতে চেয়েছেন, সব জায়গায় ভালো শিক্ষক, ভালো শিক্ষার্থী ও মানসম্মত কারিকুলাম থাকতে হবে।

বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সবাই মিলে সেই শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চান উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা চাই আগামী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব যারা করবে, আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব যারা দেবে, সেই শিক্ষার্থীদের যার যে বিষয় পড়তে ভালো লাগে, যে ক্ষেত্রে ভালো করতে চায়, রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।

তিনি বলেন, আমরা চাই প্রধানমন্ত্রীর ভিশনের আলোকে সারা বছরজুড়ে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হোক। এসব প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেরা ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতার জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ইতোমধ্যে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামীতে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স ফুটবল গোল্ড কাপ’-এর জন্য তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, আজকের এই শিক্ষা পদক অনুষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে বছরের পর বছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। তবে এবারের আয়োজনটি বিশেষভাবে ভিন্নমাত্রা বহন করছে। কারণ, গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখছেন, তার অন্যতম ভিত্তি হলো তৃণমূলের ক্ষমতায়ন। দেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর লক্ষ্য, স্বপ্ন ও এগিয়ে যাওয়ার অভিযাত্রাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও মূল্যায়নের মাধ্যমে আজকের এই অনুষ্ঠানে সেই দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন আমরা প্রত্যক্ষ করছি।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজটি শেয়ার করুন
এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তরার সড়কে অবস্থান শিক্ষার্থীদের

দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তরার সড়কে অবস্থান শিক্ষার্থীদের

প্রতিবেদক: প্রোব ডেস্ক
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
মার্কিন হামলায়  ইরানে নিহত ৩০

মার্কিন হামলায় ইরানে নিহত ৩০

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬