ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিলারা হানিফ পূর্ণিমা বড় পর্দায় এখন আগের মতো নিয়মিত না হলেও, বিনোদন অঙ্গনে তাঁর উপস্থিতি ও জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। উপস্থাপনা, বিজ্ঞাপন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই তাঁকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ চিরচেনা। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শৈশবের একটি ছবি পোস্ট করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই তারকা। গোলাপি রঙের পোশাকে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটির ছবিটি নেটিজেনদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ছবিটিতে জমা হয়েছে হাজারো মন্তব্য আর লাখো রিঅ্যাকশন।
ছবিটির পেছনের গল্প ও সেই সোনালী দিনগুলোর স্মৃতি জানতে চাইলে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পূর্ণিমা।
স্মৃতিচারণা করে পূর্ণিমা জানান, ছবিটি যখন তোলা হয় তখন তিনি তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। বাবার চাকরির সুবাদে তাঁদের পুরো পরিবার তখন ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে থাকত। আর তিনি পড়াশোনা করতেন সায়েন্স ল্যাব এলাকার বিসিএসআইআর স্কুলে। ছবিটি ছিল এক ঈদের সকালের।
পূর্ণিমা বলেন, "ঈদের আগে আম্মু নিউমার্কেট থেকে টিস্যু কাপড় কিনে আমাদের দুই বোনের জন্য জামা বানিয়ে দিতেন। মায়ের সব সময় ইচ্ছা থাকত তাঁর মেয়েদের যেন একটু আলাদা আর সুন্দর দেখায়। আমরাও ঈদের আগের রাত পর্যন্ত সেই জামা কাউকে দেখাতাম না। যতদূর মনে পড়ে, ঈদের দিন সকালে সেমাই খাওয়ার পরপরই ছবিটি তোলা হয়েছিল।"
অনেক বছর পর পুরোনো অ্যালবামে নিজের এই ছবিটি দেখে শৈশবে ফিরে যাওয়ার তীব্র আকুলতা প্রকাশ করেন তিনি। "ছবিটি দেখে মনটা কেমন যেন করে উঠল। মনে হলো ভক্তদের সাথে ভাগ করে নিই। সত্যি বলতে, যদি আবার সেই চঞ্চল ছোটবেলার দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম, কতই না ভালো হতো!"—বলেন পূর্ণিমা।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে রূপালী পর্দায় অভিষেক ঘটেছিল পূর্ণিমার। ১৯৯৮ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ চলচ্চিত্রে চিত্রনায়ক রিয়াজের বিপরীতে তাঁর যাত্রা শুরু। প্রথম ছবিতেই দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাননি। প্রায় ২৮ বছরের অভিনয় জীবনে উপহার দিয়েছেন ৮০টিরও বেশি চলচ্চিত্র।
বর্তমানে কাজে কিছুটা বেছে চলছেন এই তারকা। তার অভিনীত ‘গাঙচিল’ ও ‘জ্যাম’ নামের দুটি সিনেমা দীর্ঘদিন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। সর্বশেষ তাঁকে ছটকু আহমেদের ‘আহারে জীবন’ চলচ্চিত্রে দেখা গেছে। আজও তাঁর কাছে নতুন সিনেমার প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে পূর্ণিমা বলেন, ভালো গল্প আর মনের মতো চরিত্র পেলে তবেই আবার বড় পর্দার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন তিনি।