মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য হলো আল্লাহ তাআলার ইবাদতে তৃপ্তি খুঁজে পাওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক সময় আমরা নামাজে অলসতা অনুভব করি, কোরআন তিলাওয়াতে মন বসে না, জিকির-আজকারে অনীহা চলে আসে।
অথচ একজন মুমিনের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে তার ইবাদতের আন্তরিকতা ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের দৃঢ়তার ওপর। তাই ইবাদতের প্রতি আগ্রহ, একাগ্রতা ও আন্তরিকতা বৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। তাইতো মহানবী (সা.) তাঁর প্রিয় সাহাবিকে একটি অত্যন্ত মূল্যবান দোয়া শিখিয়েছেন, যা প্রতিটি মুসলিমের নিয়মিত আমল করা উচিত। দোয়াটি হলো—
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা আইন্নি আলা জিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা।
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে তোমার স্মরণ, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সর্বোত্তমভাবে তোমার ইবাদত করার তাওফিক দান করুন।’
কখন এই দোয়া পড়বেন?
প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর এই দোয়াটি পড়া সুন্নত। তবে শুধু নামাজের পরই নয়, দিনের যেকোনো সময় আল্লাহর কাছে ইবাদতের তাওফিক, নামাজে মনোযোগ এবং নেক আমলের শক্তি কামনা করে এই দোয়া পড়া যায়। এটি এমন একটি দোয়া, যা নিয়মিত পড়লে আল্লাহর রহমতে তাঁর স্মরণে হৃদয় সজীব হয়, ইবাদতের প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং নামাজে একাগ্রতা অর্জন সহজ হয়।
হাদিস : মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বর্ণনা করেন, এক দিন মহানবী (সা.) তাঁর হাত ধরে বললেন, ‘হে মুয়াজ! আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তাই তুমি কখনোই প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর এই দোয়া পড়া ছেড়ে দেবে না— ‘হে আল্লাহ! আমাকে তোমার স্মরণ, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সুন্দরভাবে তোমার ইবাদত করার তাওফিক দিন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২২, সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ১৩০৩)
ইবাদতের প্রতি আগ্রহ, নামাজে একাগ্রতা এবং আল্লাহর স্মরণে হৃদয়কে জীবন্ত রাখার জন্য শুধু নিজের ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট নয়; এর জন্য আল্লাহর বিশেষ সাহায্য প্রয়োজন। তাই প্রতিদিনের আমলে এই সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ দোয়াটি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে ইবাদতের তাওফিক চায়, আল্লাহ তার জন্য নেক কাজকে সহজ করে দেন এবং তার অন্তরকে নিজের স্মরণে প্রশান্ত করে দেন।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর জিকির, শুকর এবং সর্বোত্তমভাবে ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।