মিয়ানমারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে এতে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) এই তথ্য জানিয়েছে।
এনসিএস জানায়, সর্বশেষ আজ শনিবার ভোররাতে মিয়ানমারে ৪ দশমিক ১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর আগে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশটিতে ৪ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের ভূমিকম্পটি ভারতীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৯০ কিলোমিটার গভীরে। অন্যদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৯ মিনিটে হওয়া প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূগর্ভের ১০০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পবিদরা বলছেন, মিয়ানমার ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি ভারতীয়, ইউরেশীয়, সুন্দা ও বার্মা—এই চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে। ফলে এখানে মাঝারি ও বড় মাত্রার ভূমিকম্প এবং সুনামির স্থায়ী ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মূল উদ্বেগ দেশটির ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘সাগাইং ফল্ট’ বা ফাটল রেখা নিয়ে। এই ঝুঁকিপূর্ণ ফাটল এলাকার আশপাশেই গড়ে উঠেছে সাগাইং, মান্দালে, বাগো ও ইয়াঙ্গুনের মতো প্রধান শহরগুলো। এসব শহরে মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ বাস করে।
গবেষকদের মতে, ইয়াঙ্গুন শহরটি মূল ফাটল রেখা থেকে কিছুটা দূরে হলেও অতিরিক্ত ঘনবসতির কারণে এখানে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এর আগে ১৯০৩ সালে বাগো অঞ্চলে ৭ মাত্রার একটি প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে ইয়াঙ্গুন শহর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।