উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় গত মাসে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতা চাপে পড়েছে। তারই অংশ হিসেবে ইরান লেবাননে চলমান যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। তবে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হয়।
গত মাসে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবানন একটি শান্তি কাঠামোয় সম্মত হয়। কিন্তু এরপরও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহ ওই চুক্তি এবং তাদের নিরস্ত্র করার উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ইতালির রাজধানী রোমে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা আবারও আলোচনায় বসেছেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এদিকে দক্ষিণ লেবাননের দুটি পরীক্ষামূলক অঞ্চল নিয়ে সমঝোতা বাস্তবায়নে ইসরায়েল প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার। ইতালির রোমে লেবাননের সঙ্গে চলমান আলোচনা এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি পরীক্ষামূলক অঞ্চল পরিকল্পনা। এর আওতায় ধাপে ধাপে হিজবুল্লাহ অস্ত্র সমর্পণ করবে, ইসরায়েলি বাহিনী সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে সরে যাবে এবং সেখানে পর্যায়ক্রমে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। তবে দ্রুত কোনো সমাধান আসবে—এমন প্রত্যাশা কম বলেই কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।
এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড লেবানন ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী সীমান্তজুড়ে লেবাননের ভেতরে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ দখল করে রেখেছে। ইসরায়েলের দাবি, উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলোকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে সুরক্ষা দিতেই এই নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখা প্রয়োজন।