বাংলাদেশকে বিশ্বমানের বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ-এর ৩১তম বার্ষিক কাউন্সিলে বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করব।’ ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে আনা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হ্রাস এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমে দেশে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও সহজ করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো উন্নত নীতিকাঠামোর মাধ্যমে ব্যবসার খরচ কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা। এর ফলে দেশে ব্যবসা করার সহজতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যেই নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে বেশ কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার। কোনো সরকার এককভাবে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর সফলতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বাজেট ও অর্থনৈতিক নীতির বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বাজেটেই সরকারের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক রূপরেখা স্পষ্ট করা হয়েছে। সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার বাংলাদেশকে যতটা সম্ভব আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে কাজ করছে। রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এমন খাতে কাঁচামালের ব্যয় কমাতে বন্ডেড সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, দেশীয় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, সে জন্য সরকার সহায়ক পরিবেশ তৈরি করছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ ও অর্থনৈতিক উদারীকরণের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী দিনে এসব সংস্কারের আরও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখা যাবে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মাহদী আমিন।
অনুষ্ঠানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।